দেশের বিভিন্ন স্থানে পশুরহাটে পশু সমাগমে কমতি নেই। কিন্তু দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে থাকায় বেচাকেনা কম। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
রাজশাহীতে গরু বেশি, ক্রেতা কম
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী :রাজশাহী অঞ্চলের গরুর হাটগুলো গরুতে ঠাসা থাকলেও ক্রেতা কম। আবার অনেক ক্রেতা আশায় আছেন, শেষের দিকে দাম কমবে। অন্যদিকে বেশি দামের আশায় পশু বিক্রি করছেন না গরুর মালিক-খামারিরাও। এ ছাড়া, কেনার পর কোরবানি পশু দেখভাল ও যত্নের বিষয়টি মাথায় রেখে অনেকেই অপেক্ষা করছেন ঈদের দুই/এক দিন আগে কোরবানির পশু কেনার জন্য।
এ বছর ভারতীয় গরুর সংখ্যা কমে আসায় হাটগুলোতে দেশি গরুর চড়া দাম হাঁকছেন খামারিরা। রাজশাহী সিটি হাটে চারটি গরু নিয়ে আসা রাজশাহীর মোহনপুরের তরুণ উদ্যোক্তা খাইরুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত বছর কোরবানির ঈদের পর ৮০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে চারটি দেশি গরু ক্রয় করেন। এরপর বছরব্যাপী ধানের গুঁড়া, ভুসি, নালিসহ বিভিন্ন উপাদান ক্রয় এবং শ্রমিক দিয়ে গরুর পরিচর্যা করতে গিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার ওপরে খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত চারটি গরুর দাম উঠেছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। যেখানে এক বছর পর চারটি গরুতে ৫০ হাজার লাভ হওয়ার কথা সেখানে খরচই উঠছে না। বড়ো কথা গ্রাহকই পাওয়া যাচ্ছে না।
ভূঞাপুরে জমে উঠেছে গোবিন্দাসীর গরুর হাট
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) :আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহত্ ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী গরুর হাট। সপ্তাহে রবিবার ও বৃহস্পতিবার গরুর হাটে কেনা-বেচা বেড়েছে। তবে দামে বিক্রেতা খুশি হলেও হতাশ ক্রেতারা। তাদের দাবি ভারত থেকে গরু না আসায় এবার ঈদে গরুর দাম বেশি। সরেজমিনে গোবিন্দাসী হাটে গিয়ে এমনচিত্র দেখা গেছে।
তবে প্রায় ৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় খ্যাত এই গরু হাটটি স্থায়ী ইজারা না হওয়ায় ঐতিহ্য হারিয়েছে। অথচ এই হাটের কারণে অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। গরু হাটকে কেন্দ্র করে এলাকায় দোকানপাট, গরুর হোটেল ভাড়া দিয়ে লাভবান হচ্ছে এই এলাকার মানুষ। অন্যদিকে উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান গরুর হাট বসায় এই হাটে গরুর আমদানি কমে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, গোবিন্দাসীসহ অত্র অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান দিচ্ছে এই হাট। সকলের দায়িত্ব হাটটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করা। হাট জমানোর জন্য সেড নির্মাণ, অফিস নির্মাণ, ডগা পাকাকরণ, ভিতরের রাস্তা উন্নয়ন কাজ করেছি। গোবিন্দাসী গরুর হাটটিতে মূলত ভারতীয় গরু আমদানি বেশি হতো। বর্তমানে ভারত থেকে গরু না আসা ও পার্শ্ববর্তী সরিষাবাড়ির পিংনা হাট ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের দেওহাটা হাট হওয়ায় পাইকাররা ধাবিত হচ্ছে ঐ হাটগুলোতে।
মির্জাপুরে দাম চড়া হওয়ায়
ক্রেতারা বিপাকে
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : মির্জাপুরে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। পশুর হাটে এ বছর গরু-ছাগল ও মহিষের দাম গত বছরের চেয়ে অনেক চড়া। গরু-ছাগলের দাম চড়া হওয়ায় হাটে ক্রেতাগণ এসে পরেছেন চরম বিপাকে। বন্যার এবং ভারত থেকে গরু আসছে না এই অজুহাতে গৃহস্থরা ও বেপারীরা গরু-ছাগল ও মহিষের দাম ন্যায্য দামের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ দাম হাঁকছেন বলে ক্রেতাগণ অভিযোগ করেছেন। আজ মির্জাপুর উপজেলার বৃহত্ কোরবানির পশুর হাট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন দেওহাটা ও তক্তারচালা পশুর হাটে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
পশুর হাটে কোরবানির পশু ক্রয় করতে এসেছিলেন মো. লাভলু মিয়া লাভু। মধ্যম সাইজের একটি গরু কেনার জন্য তিনি ৮০ হাজার টাকার বাজেট নিয়ে এসেছিলেন। তিনি দেওহাটা পশুর হাটে এসে দেখতে পান মধ্যম সাইজের একটি গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায়। অথচ গত বছর এই একই সাইজের গরু বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ হাজার টাকায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
উপজেলার দেওহাটা পশুর হাট ছাড়াও গোড়াই, হাটুভাঙ্গা, বাঁশতৈল, তক্তারচালা, তরফপুর, পাথরঘাটা, মহেড়া, ছাওয়ালী, ওয়ার্শি ও গুনটিয়া এলাকায় পশুর হাটে ঈদের দিন পর্যন্ত পশু ক্রয়-বিক্রয় হবে বলে ব্যাপারী ও গৃহস্থরা জানিয়েছেন। এদিকে কোরবানি পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়াও হাটের ইজারাদারগণ ক্রেতা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যাপারীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
রাজা ও বাবু নামের দুইটি গরু মাতাবে সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা :এবারের ঈদুল আজহায় রাজা ও বাবু নামের দুটি গরুতে মাতবে সাতক্ষীরা। রাজা নামের গরুটির ওজন ২৫ মণ ও বাবুর ওজন ২০ মণ। রাজা-বাবুকে নিয়েই এবারের ঈদে স্বপ্ন দেখছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোয়ালপোতা গ্রামের খামারি কৃষ্ণপদ সরকার। দীর্ঘ চার বছর ধরে লালন-পালন করে রাজা ও বাবুকে বড় করে তুলেছেন তিনি। তুলতে চান এবারের পশুর হাটে।
খামারি কৃষ্ণপদ সরকার জানান, গরু দুটি দেখতে রাজা ও বাবুর মতো। তারা খায়ও রাজা-বাবুর মতো। তাই তিনি নাম দিয়েছেন রাজা ও বাবু। রাজা ও বাবু দুটো গরুই হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের। ভুসি, শুকনা খড়, কাঁচা ঘাস, কুড়া ইত্যাদি খাইয়ে রাজা ও বাবুকে তিনি বড় করে তুলেছেন। প্রতিদিন তাদের কমপক্ষে তিনবার গোসল করাতে হয়। বছরে তার গরু দুটির পেছনে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হয়। তাই এবারের ঈদে তিনি ন্যায্য দাম পেলে রাজা ও বাবুকে ছেড়ে দিতে চান।
পীরগাছায় পশুর হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়
পীরগাছা (রংপুর) :পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ইজারাদাররা। পীরগাছা উপজেলায় ছোটো-বড়ো প্রায় ছয়টি হাটে গরু-ছাগল পাওয়া যায়। এসব হাট প্রতি বছর ১ বৈশাখ উপজেলা প্রশাসন ইজারা দিয়ে থাকে। ঈদ উপলক্ষে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাট হিসেবে দেবী চৌধুরাণী হাট, পাওটানার হাট, আনন্দনগর হাট ও দেউতির হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণে গবাদিপশু পাওয়া যায়। বেচা-বিক্রিও অনেক। পছন্দের পশু কেনা-বেচার জন্য এবারো হাটগুলো জমে উঠেছে। কিন্তু বাদ সেধেছে ইজারাদাররা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করছেন তারা। একই সঙ্গে দিতে হচ্ছে দ্বিমুখী টোল। একটি গরু বিক্রি হলে বিক্রেতার নিকট ২০০ টাকা ও ক্রেতার নিকট ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও একটি ছাগল বিক্রি হলে বিক্রেতার নিকট ১৫০ টাকা এবং ক্রেতার নিকট থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ী তাজরুল ইসলাম বলেন, পীরগাছা উপজেলার হাটগুলোতে প্রশাসনের তদারকি না থাকায় ইজারাদাররা ইচ্ছামতো পশুর হাটে চাঁদা আদায় করছেন। ফলে ব্যবসায়ীসহ ক্রেতা-বিক্রেতারা ইজারাদারদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, হাটের চার্ট অনুযায়ী টোল আদায় করার কথা। চার্টের বাইরে টোল আদায়ের সুযোগ নেই। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দেবী চৌধুরাণী হাটের ইজারাদার শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের সময় পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে।
