ঈদুল আজহা ত্যাগের শিক্ষায় মহীয়ান

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ২২:০১

বিশ্ব মুসলিম পরম ত্যাগের নিদর্শন স্বরূপ জিলহজ মাসের ঐতিহাসিক ১০ তারিখ মহাসমারোহে পশু জবেহের মাধ্যমে কোরবানির যে আনন্দ উত্সব করে থাকেন তাকে ঈদুল আজহা বলে। ত্যাগের শিক্ষায় মহীয়ান এ দিন। বস্তুত হজরত ইবরাহিম (আ) আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে প্রাণাধিক প্রিয় একমাত্র পুত্র হজরত ইসমাইল (আ) কে কোরবানি করার মতো ত্যাগের যে ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করেন, সে সুন্নত পালনার্থে মুসলিম জাতি আজও কোরবানি করে থাকেন।

আল্লাহর নবি হজরত ইবরাহিম (আ) সুদীর্ঘকাল পর বৃদ্ধ বয়সে এক নেক সন্তান লাভ করলেন যার নাম রাখলেন ইসমাইল। নবি বংশ টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন হজরত ইসমাইল (আ) কে পেয়ে হজরত ইবরাহিম (আ) খুশিতে আত্মহারা। পিতৃস্নেহ উজার করে হজরত ইবরাহিম (আ) যে ইসমাইলকে এত মায়া-মমতা স্নেহ দিয়ে ভালোবাসেন, সেই ইসমাইলকেই আল্লার রাস্তায় কোরবানি করার নির্দেশ দিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। এ এক কঠিন পরীক্ষা! যদিও আল্লাহর নবি হজরত ইবরাহিম (আ.) জীবনের কোনো পরীক্ষাতেই অকৃতকার্য হননি। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কঠিন থেকে কঠিনতর পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েও তিনি সফলতার স্বাক্ষর রেখে খলিলুল্লাহ তথা আল্লাহর বন্ধু উপাধি লাভ করেছেন। আজকের এ পরীক্ষাতেও তাকে উত্তীর্ণ হতেই হবে। এবারও তিনি পরম করুণাময়ের হুকুমের কাছে আত্মসমপর্ণ করলেন। মমতার প্রলোভনে প্রলুব্ধ না হয়ে নবি ইবরাহিম (আ.) ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন :হে বত্স্য আমি স্বপ্নাদিষ্ট হয়েছি তোমাকে কোরবানি করার। এ ব্যাপারে তোমার মতামত কী? আনুগত্যশীল পুত্র হজরত ইসমাইল আল্লাহর পাকের নির্দেশ শোনামাত্রই নিজেকে তার প্রতি সমর্পিত করে বললেন, হে পিতা আপনি আল্লাহ পাকের তরফ থেকে যে কাজ করতে আদিষ্ট হয়েছেন সত্বর তা বাস্তবায়ন করুন। নিশ্চয়ই আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন।

কোরবানি করার সময় আল্লাহর নবি হজরত ইবরাহিম (আ) যাতে প্রিয়তম পুত্রের প্রতি অনুরাগে বশিভূত না হয়ে পড়েন সে জন্য ছেলেকে উপুড় করে শোয়ালেন। চোখ দুটো বেঁধে নিলেন, স্বজোরে ছুরি চালালেন, পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হজরত ইবরাহিমের আত্মত্যাগে অবিভূত হয়ে ডাক দিয়ে বললেন, হে ইবরাহিম তুমি তো স্বপ্নকে সত্যি পরিণত করে দেখালে। ইবরাহিম এভাবেই আমি সত্ কর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি। আল কোরআনে এভাবেই হজরত ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ) এর মহান ত্যাগ— তিতিক্ষার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ইবরাহিম চোখ খুলে দেখলেন প্রাণপ্রিয় ইসমাইল সম্পূর্ণ অক্ষত। তদস্থলে এক বেহেস্তি দুম্বার কোরবানি কার্যকর হয়েছে। হজরত ইবরাহিম ও হজরত ইসমাইল (আ) এর ত্যাগ ও তিতিক্ষার সুমহান আদর্শকে চিরভাস্বর করার জন্য এবং আল্লাহ পাকের দরবারে আনুগত্যশীল বান্দা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমান নর নারীর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। এজন্য প্রিয় নবি (স) অত্যন্ত কঠোর ও কঠিন ভাষায় বলেছেন, কোরবানি করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা কোরবানি করে না তারা যেন অবশ্যই আমার ইদগাহের নিকট না আসে।

lলেখক : ইসলামি চিন্তাবিদ ও অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়