খুলনার দাকোপে চুনকুড়ি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ঐতিহ্যবাহী পোদ্দারগঞ্জ বাজারসহ মানবসেবা প্রতিষ্ঠান রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙনের কারণে নদীর তীরবর্তী ঐ এলাকার শতাধিক পরিবার কয়েকবার সহায় সম্বল হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলা সদর চালনা বাজারের কোল ঘেঁষে উত্তর-দক্ষিণ বয়ে গেছে চুনকুড়ি নদী। পাউবোর ৩৩ নম্বর পোল্ডারের ওয়াপদার বেড়িবাঁধের ভেতরে চুনকুড়ি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত পোদ্দারগঞ্জ বাজার, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম ও এখানে ছিল শতাধিক পরিবারের বসবাস। এ নদীতে সারাবছরই চলে ভাঙন। অব্যাহত এ নদী ভাঙনে চুনকুড়ি খেয়াঘাট থেকে শুরু করে দাকোপ খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর আবার একাধিকবার এলাকার ভেতর দিয়ে নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণ হওয়ায় পোদ্দারগঞ্জ বাজারের অর্ধেকাংশসহ রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম ও শতাধিক পরিবার ওয়াপদার বাইরে পড়ে যায়। পরবর্তীতে সেবাশ্রমসহ ওই শতাধিক পরিবার নদীর জোয়ারের পানির কবল থেকে নিজেদের রক্ষার্থে বাড়ির পশ্চিম পাশ অর্থাত্ নদীর তীর দিয়ে একটি মধ্যম বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। কিছুদিন পর বাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হলে কয়েক বছর নদীর জোয়ারের পানিতে অধিকাংশ পরিবার সহায় সম্বল হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়।
পোদ্দারগঞ্জ এলাকার নিরাপদ সানা, জগদিশ সানা, গৌতম সানা, ভোলানাথ সানা ও সৌরভ সানা জানান, তারা সহায় সম্বল হারিয়ে ভাঙন কবলিত স্থান থেকে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। একই এলাকার বিনায়ক রায় বলেন, নদী ভাঙন এতো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে কোনো সময়ে চুনকুড়ি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে তার বাড়িঘর। এই দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ সরদার জানান, ২০০৬ সাল থেকে রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম মানব কল্যানে কাজ করে আসছে। নদী ভাঙ্গনের কারণে বর্তমানে সেবাশ্রমটি হুমকির মুখে পড়েছে, যে কোনো সময়ে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার্থে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, যেহেতু রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের পূর্ব পাশ দিয়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নতুন ওয়াপদা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, সেহেতু ওয়াপদার বাইরে পড়ায় নতুন করে আমাদের কিছু করণীয় নাই। যদি ক্রাইট এরিয়ার মধ্যে পড়তো তাহলে তাদের কিছু আর্থিক ক্ষতিপূরণের সহযোগিতা করা যেত।
