ভর দুপুরে নয়নাভিরাম রং-রূপে প্রস্ফুটনের মাধ্যমে নিজের অস্তিত্বের জানান দেয় দুপুরমনি ফুল। দুপুরে ফোটে তাই তো এ নামকরণ। তাছাড়া অঞ্চলভেদে রয়েছে নানান নাম—দুপুরচণ্ডি, দুপুর-মালতি, বন্ধুক, বন্ধুলী, কটলতা ইত্যাদি। উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Pentapetes Phoenicea, পরিবার Malvaceae। আদি নিবাস দক্ষিণ এশিয়া। আমাদের দেশের প্রায় সকল স্থানে রয়েছে এ ফুলের বিস্তৃতি এবং জনপ্রিয়তা।
দুপুরমনি বর্ষজীবী গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। গাছের কাণ্ড অর্ধকাষ্ঠল, উচ্চতা গড়ে ৩ থেকে ৫ ফুট হয়ে থাকে। শাখা-প্রশাখা লম্বা ও ছড়ানো। প্রাপ্তবয়স্ক গাছ ঝাঁকড়া আকার ধারণ করে। পাতার রং উজ্জ্বল সবুজ, খসখসে, কিনারা খাঁজকাটা, লম্বায় ৬ থেকে ১০ সেন্টিমিটার, অগ্রভাগ সরু। নতুন শাখা-প্রশাখার পত্রকক্ষ থেকে ফুল ফোটে। ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম বর্ষা। তবে এর ব্যাপ্তি হেমন্তকাল অবধি। রয়েছে বাহারি রঙের ফুল—সিঁদুর লাল, হালকা গোলাপী বা সাদা। তবে আমাদের দেশে লাল রঙের ফুলের দেখা মেলে বেশি। ফুল চওড়ায় ২ সেন্টিমিটার, গন্ধহীন, নরম কোমল পাপড়ি পাঁচটি, মাঝে আকর্ষণীয় মিশ্র রঙের পরাগ অবস্থিত। ফুল দ্রুত ঝিমিয়ে গিয়ে ঝরে যায়। ফুল শেষে গাছে ফল ধরে। ফলের আকার গোলাকৃতির, রং প্রথমে সবুজ এবং পরিপক্ব ফল কালচে রং ধারণ করে। পাঁচ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট ফলের প্রতি প্রকোষ্ঠে ৮ থেকে ১২টি করে বীজ থাকে। বীজের মাধ্যমে ও শাখা কাটিং করে বংশ বিস্তার করা যায়। সাধারণত বীজের ব্যবহার অধিক। উঁচু ভূমি ও প্রায় সব ধরনের মাটিতে দুপুরমনি জন্মে। তবে সুনিষ্কাশিত মাটি ও রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ দুপুরমনির জন্য অত্যাবশ্যক।
দুপুরমনির রয়েছে ভেষজ নানান গুণ। তাই তো গ্রামাঞ্চলে প্রিয় উদ্ভিদ দুপুরমনি।
