ধর্মীয় সম্প্রীতি দেখতে বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে যাওয়া উচিত

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ২২:৪৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভূয়সী প্রশংসা করে বাংলাদেশকে ধর্মীয় সম্প্রীতির রোল মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ভারত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার সরকারি বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাত্কালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশিরা কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে মিলেমিশে ধর্মীয় সম্প্রীতির সঙ্গে বাস করছে তা প্রত্যক্ষ করতে বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফর করা উচিত।

বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সপ্তম বৈঠকে অংশ নিতে মঙ্গলবার দিল্লি পৌঁছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকের শুরুতে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের অকাল মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত কর্মসূচির অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি টানা তিন মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যেন ভারতসহ অন্যান্য দেশের ক্ষতি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশের নীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের সহায়তা চাওয়া হলে নরেন্দ্র মোদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ভারত সরকার রোহিঙ্গা সমস্যাটি ইতিমধ্যেই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করেছে। ভারত মনে করে, সমস্যাটি অবশ্যই সমাধান করতে হবে। মোদি বাংলাদেশে ঠাঁই নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আবারও মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

বৈঠকে আসাদুজ্জামান উভয় দেশের সীমান্তে মাদকসহ সব চোরাচালান বন্ধে ভারত সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য অপরাধ রোধে নিরাপদ ও কার্যকর সীমান্ত প্রতিষ্ঠায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের মো. শহিদুজ্জামান, আইজিপি ড. মো. জাভেদ পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করতে ঢাকা-নয়াদিল্লির ঐকমত্য

বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্ত চোরাচালান বন্ধ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করতে সহযোগিতা জোরদারে একমত হয়েছে। বুধবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৭ম রাউন্ড বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। ইত্তেফাকের নয়াদিল্লি প্রতিনিধি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জিকে রেড্ডি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস প্রতিরোধে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করা হয় বলে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বৈঠকে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতির প্রশংসা করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ভারতের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।