‘বাংলাদেশের ইতিহাসের অসীম সাহসী এক নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ ১২ বছরের জেল-জীবনে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব একদিকে ঘর, অন্যদিকে দল সামলেছেন। বঙ্গমাতা শুধু বঙ্গবন্ধুর জীবনসঙ্গীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিরও সঙ্গী। কিন্তু সামনে না এসে থেকেছেন সব সময় পর্দার অন্তরালে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী পালনে আয়োজিত একাধিক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, স্মৃতিচারণা, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ নানা আয়োজনে এই জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় দিবসটি জাতীয়ভাবে উদ্যাপন করে।
সকাল সাড়ে ৮টায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে বঙ্গমাতার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখানে বঙ্গমাতার রুহের মাগফেরাত কামনা করে কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বঙ্গমাতা শুধু বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী নন, ছিলেন সহকর্মী ও বন্ধু। শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ এক যুগের জেলজীবনে তিনি একদিকে যেমন পরিবারকে সামলেছেন, ঠিক তেমনি সে সময়ে দলকে সামলানোর দায়িত্বও ছিল তার কাঁধে। তিনি কখনো সামনে আসেননি। পর্দার আড়ালে থেকেই তার কাজ সম্পাদন করে গেছেন। আমরা আজ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বীর নারীকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আনন্দ ও হাসি-কান্নার মধ্য দিয়েই আজকের দিনটি উদ্যাপন করা হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, বঙ্গমাতা পরিষদসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসংখ্য সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গমাতার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তিনি জাতির পিতার হত্যাকারীদের হাতে নির্মম মৃত্যুবরণ করেন। ইতিহাসে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেবল একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মিণীই নন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে অন্যতম এক নেপথ্য অনুপ্রেরণাদাত্রী। বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি বঙ্গবন্ধুকে সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন। ছায়ার মতো অনুসরণ করেছেন প্রাণপ্রিয় স্বামী বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে।
