যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে কোনো নারী প্রতিনিধির উপস্থিতি না থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদলের ছবিতে দেখা যায়, আলোচনার টেবিলে উপস্থিত সবাই পুরুষ।
ছবিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বৈশ্বিক কূটনীতিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একজন নারীও না থাকা আন্তর্জাতিক ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
গীতা গোপীনাথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “এটি যেন মেধাতন্ত্রের সমাপ্তির প্রতিচ্ছবি। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির বৈঠক, অথচ সেখানে একজন নারীও নেই।”
পরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে অসংখ্য যোগ্য নারী থাকা সত্ত্বেও এমন একপাক্ষিক প্রতিনিধিদল ‘ব্যাখ্যাতীত’। তার মতে, বর্তমানে যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে এবং সেটিই নির্ধারণ করছে কারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে জায়গা পাবেন।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হালিমা কাজেমও। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে বিশ্ব আবার পেছনের দিকে হাঁটছে।
তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাকা ওবামা আমলের যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সে সময় আলোচনায় নারী কর্মকর্তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল।
কাজেমের ভাষায়, “এখন দুই পরাশক্তির কেউই মনে করছে না যে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঘরে নারীদের উপস্থিতি প্রয়োজন।”
তার মতে, এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা নয়; বরং দুই দেশই এমন বার্তা দিচ্ছে যে বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে নারীদের কণ্ঠস্বরকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, পুরোপুরি পুরুষনির্ভর প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘পুরুষতান্ত্রিক ও বর্জনমূলক ক্ষমতার কাঠামো’র প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে।
উল্লেখ্য, ওবামা প্রশাসনের সময় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠকগুলোতে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস এবং চীনের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ ইয়ানদংয়ের মতো জ্যেষ্ঠ নারী কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছিলেন।
তবে এবারের মূল বৈঠকে নারী প্রতিনিধি না থাকলেও ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে কয়েকজন নারী উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ট্রাম্পের পুত্রবধূ লারা ট্রাম্প, সিটিগ্রুপের প্রধান নির্বাহী জেন ফ্রেজার এবং মেটার প্রেসিডেন্ট ডিনা পাওয়েল ম্যাককরমিক।
