ইরানের সঙ্গে আবারও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ০৯:২৮

ইরানের সঙ্গে যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে পুরোদমে যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার তীব্র আশঙ্কার মধ্যে সোমবার (১৮ মে) দ্বিতীয় দিনের মতো জরুরি বৈঠকে বসেছে ইসরায়েলের নীতি নির্ধারণী নিরাপত্তা ক্যাবিনেট। 

হিব্রু গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘ইসরায়েল হাইয়োম’ তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বিশেষ ক্যাবিনেট বৈঠকটি আহ্বান করেন। এর আগে গত রোববারও ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ বা ‘নেক্সট স্টেপ’ যৌথভাবে সমন্বয় করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক দীর্ঘ ফোনালাপের পর প্রথম দফা জরুরি বৈঠক করেছিলেন নেতানিয়াহু।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি বিশ্বস্ত সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, ইরানের ওপর আমেরিকার নতুন করে একটি বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো এখন আর ‘হবে কি হবে না’ সেই পর্যায়ে নেই, বরং প্রশ্ন হচ্ছে হামলাটি ‘ঠিক কখন’ চালানো হচ্ছে। 

ওই সূত্রের দাবি, এবারের পরিকল্পিত মার্কিন হামলাটি এর আগের সামরিক অভিযানগুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অনেক বেশি মারাত্মক হবে। এমনকি এই দফায় ইরানের এমন কিছু কৌশলগত ও স্পর্শকাতর স্থাপনাকে টার্গেট বা লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতদিন ধরে সুনির্দিষ্টভাবে এড়িয়ে চলছিলেন।

অন্য দিকে ইসরায়েলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শীর্ষ নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সাথে আরেকটি সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বা সংঘাতের বিষয়টি মাথায় রেখে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পন্ন করেছে। জরুরি বৈঠকে ইসরায়েলের নীতি নির্ধারণী নিরাপত্তা ক্যাবিনেট। 

মূলত চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী একযোগে বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর থেকেই সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই হামলার পর তেহরানও পাল্টা প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালায় এবং বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’র নৌপথে চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। 

পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতি চললেও গত ১৩ এপ্রিল থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের সমস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্যিক ও নৌযান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি কঠোর নৌ অবরোধ কার্যকর করে রেখেছে মার্কিন নৌবাহিনী, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ইত্তেফাক/টিএইচ