সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ‘শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর’ পাঁচটি গার্ডার হঠাৎ করেই ভেঙে নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে। এই ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তিন বছরের মধ্যে সেতুর নির্মাণের কথা থাকলেও সেটা ৮ বছরেও শেষ হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। এরই মধ্যে পাঁচটি গার্ডার নদীতে তলিয়ে যাওয়ার খবরে নতুন করে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।
সর্বশেষ বুধবার (২০ মে) এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম। এর আগে সোমবার ভোররাতে যাদুকাটা নদীর পূর্ব পাশের ৩ ও ৪ নাম্বার পিলারে উপরে থাকা সেতুটি ৫টি গার্ডার ভেঙে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর ফলে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এলজিইডি তাহিরপুর অফিস সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে হঠাৎ করেই বিকট শব্দ হয় ব্রিজে। নদীতে গিয়ে দেখি সেতুর পূর্ব পাশের পিলারের উপর থেকে পাঁচটি গার্ডার ভেঙে পড়ে গেছে। এছাড়াও নির্মাণাধীন ব্রিজের পাশ থেকে দিনে মেশিন ও রাতের আঁধারে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে ব্রিজ ভেঙে পড়ছে। এছাড়াও শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্ন কাজ করে, সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার আগেই দুই দফায় গার্ডার ভেঙে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে যাদুকাটা নদীতে ৮৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ বছর মেয়াদে সেতুটি নির্মাণ কাজ ২০২১ সালের জুন মাসে শেষ করার নির্দেশনা যাদুকাটা নদীর বিন্নাকুলি-গরকাটি এলাকায় ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ‘শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু’ নির্মাণ কাজ পায় ‘তমা কনট্রাকশন’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে সেতুটি কয়েক দফা ব্যয় ও সময় বাড়িয়েও ২০২৬ সালেও শেষ হয়নি। সেতুটি ৩০-৩৫ ভাগ কাজ বাকি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল আহমেদ জানান, স্বপ্নের সেতু তৈরির আগেই ভেঙে নদীতে পড়ছে। নির্মাণ কাজ শেষে চলাচলের সময় যদি ভেঙে পড়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে। আগেই সতর্কতা হওয়া উচিত ছিল। তা না হলে এর মাসুল সবাইকে দিতে হবে।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়েই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেতুটির পূর্ব পাশের নদীর মাঝ খানে থাকা পিলারে পাঁচটি গার্ডার ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে। তবে কি কারণে ভেঙে পড়েছে সঠিক বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনা ঊর্ধ্বতন ও কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর এটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের তদন্তের পর বলা যাবে কী কারণে ভেঙে পড়েছে।

