একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ২০:০০

মিহির রঞ্জন তালুকদার, প্রভাষক

বালাগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিলেট

বিশ্বগ্রাম (Global Village) এর অসুবিধাসমূহ: বিশ্বগ্রামের অসুবিধা মূলত তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলোকেই বোঝায় যেমন-

মিথ্যা তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়।

প্রযুক্তির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হয় ইত্যাদি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) বা AI: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো মানুষের বুদ্ধি অর্থাত্ চিন্তাভাবনাগুলোকে কৃত্রিম উপায়ে কোনো যন্ত্রে বা কম্পিউটারে কাজ করানো। অর্থাত্ মানুষ যেভাবে চিন্তাভাবনা করে, বুদ্ধি কাটিয়ে কোনো কাজ করতে পারে ঠিক কোনো যন্ত্র/কম্পিউটারের মাধ্যমেও যখন একই কাজ করানো হয় তখন থাকে বলা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স’ শব্দটির সাথে সর্বপ্রথম সকলকে পরিচয় করিয়ে দেন John McCarthy. কিন্তু আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্সের জনক বলা হয় বিজ্ঞানী অ্যালান টুরিং (Alan Turing) কে। তার করা টুরিং টেস্ট আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্সের ভিত্তি স্থাপন করে। টুরিং টেস্ট হচ্ছে এমন একটি পরীক্ষা যার মাধ্যমে বোঝা যায় কোনো যন্ত্রের/কম্পিউটারের চিন্তা করার ক্ষমতা আছে কি-না?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যবহূত প্রোগ্রমিং ভাষাগুলো হলো- LISP, PROLOG, C/C++, CLISP, Java ইত্যাদি। ( বি:দ্র প্রায় সময়ই বহুনির্বাচনি অংশে এখান থেকে প্রশ্ন থাকে। কাজেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রোগ্রমিং ভাষাগুলো মনে রাখতে হবে।)

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জ্ঞানের ক্ষেত্রসমূহ (Domains of AI): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জ্ঞানের ক্ষেত্রসমূহকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ১. বুদ্ধিবৃত্তিক বিজ্ঞান ২. রোবটিক্স

৩. ন্যাচারাল ইন্টারফেস।

বুদ্ধিবৃত্তিক বিজ্ঞান:  বুদ্ধিবৃত্তিক বিজ্ঞান-এর অংশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে - *লার্নিং সিস্টেম * ফাজি লজিক * নিউরাল নেটওয়ার্ক

* এক্সপার্ট সিস্টেম ইত্যাদি।

লার্নিং সিস্টেম: লার্নিং সিস্টেম আবার চারটি উপাদান নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো- ১. লার্নিং এলিমেন্ট ২. পারফরমেন্স এলিমেন্ট ৩. ক্রিটিক এবং ৪. প্রবলেম জেনারেটর।

ফাজি লজিক: ফাজি লজিক হলো এক ধরনের লজিক, যা সাধারণ সত্য এবং মিথ্যা মানগুলোর চেয়েও বেশি কিছু শনাক্ত করতে পারে।

নিউরাল নেটওয়ার্ক: নিউরাল নেটওয়ার্ক হলো এক ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা মানব মস্তিষ্ক যে উপায়ে কাজ করে সে রকমি করতে পারে।

এক্সপার্ট সিস্টেম (Expert System): আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্সে ব্যবহূত বুদ্ধিবৃত্তিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় হলো এক্সপার্ট সিস্টেম।

এক্সপার্ট সিস্টেম হলো একটি প্যাকেজ সফটওয়্যার যা সুসংগঠিত তথ্য ব্যবহার করে কম্পিউটারকে কোনো বিষয়ে দক্ষ বা বিশেষজ্ঞ করে তুলে। যেমন ক্যাডুলাস এবং মাইসিন নামক এক্সপার্ট সিস্টেম থেকে ডাক্তাররা চিকিত্সা সংক্রান্ত জটিল সমস্যার কথা জেনে নিতে পারে। এক্সপার্ট সিস্টেম গঠনে সহায়তাকারী উপাদানগুলো হলো-নলেজ বেজ (Knowledge Base) এবং সফটওয়্যার রিসোর্স।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার:

জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে। উদাহরণ: ম্যাকসিমা

চিকিত্সা ক্ষেত্রে। যেমন-মাইসিন

কাস্টমার সার্ভিস প্রদানে। যেমন- Automated online assistants

বিনোদন ও গেম ( যেমন-দাবা) খেলায়।

আদালতের বিচারকার্য পরিচালনা, রায় প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।

মানব বুদ্ধিমত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে পার্থক্য আশাকরি তোমরা নিজেরাই বানিয়ে লিখতে পারবে । যদি সমস্যা হয় তোমাদের প্রতিটি বইয়েই সুন্দর করে দেয়া আছে। পড়লেই পারবে। মনে রেখো প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করা ভালো শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য।