কসোভো যদি তাদের সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর কোনো ধরনের চেষ্টা চালায় তাহলে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনা ব্রানাবিচ। বুধবার বেলগ্রেডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
দুই দশক আগে সার্ব শাসনের বিরুদ্ধে কসোভোর আলবেনীয়রা ফুঁসে উঠেছিল। দেশটিতে এখন ৪ হাজার সদস্যের ছোট একটি সেনাবাহিনী রয়েছে। ন্যাটো ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর পরামর্শ উপেক্ষা করে আলবেনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ কসোভোর পার্লামেন্ট সামনের সপ্তাহের ভোটে সৈন্য সংখ্যা বাড়িয়ে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ সেনাবাহিনী’ গড়ার পথে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। পূর্ণ একটি সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে কয়েক বছর লাগলেও সার্বিয়া বলছে, কসোভোতে বসবাস করা সংখ্যালঘু সার্বদের উচ্ছেদের চিন্তা থেকেই আলবেনীয় সাংসদদের এ ভাবনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহায়তার ওপর নির্ভরশীল কসোভোর নেতারা শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। “কখনোই সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে হবে না, এটিই প্রত্যাশা আমার। এখন টেবিলে থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে এটি থাকছেই। কেননা আমরা জাতিগত নিধনযজ্ঞ দেখতে চাই না,” বলেছেন ব্রানাবিচ।
২৮ হাজার সদস্যের সার্ব সেনাবাহিনী কসোভোতে কোনো ধরনের অভিযান চালালে তা বেলগ্রেডের ইইউয়ে ঢোকার রাস্তায় কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে, বলছেন পর্যবেক্ষকরা। ব্রানাবিচের মন্তব্য সার্ব জাতীয়তাবাদকে ফের উসকে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের। ২০০৮ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করা কসোভোর সঙ্গে সার্বিয়ার সম্পর্ক এমনিতেই উত্তেজনাপূর্ণ। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংগঠন ইন্টারপোলে কসোভোর অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে বেলগ্রেডের লবিংয়ের পাল্টায় গত মাস থেকে দেশটির পণ্যের ওপর প্রিস্টিনার (কসোভোর প্রশাসনিক কেন্দ্র) ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর দুই দেশের রেষারেষি আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল জেন্স স্টল্টেনবার্গও এই মুহূর্তে কসোভোর পূর্ণাঙ্গ সেনাবাহিনী গঠনের পক্ষে নন।
