ঈদের আর মাত্র এক দিন বাকী। বাজারে পশু সরবরাহ বেশি থাকলেও বিক্রি নেই বললেই চলে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) :নন্দীগ্রাম উপজেলার সর্ববৃহত্ রনবাঘা হাটের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের ওপর কোরবানির পশু হাট বসিয়ে চলছে বেচাকেনা। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যানবাহনের যাত্রী, চালক ও পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাটের জায়গা সংকট হওয়ায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের ওপর কোরবানির পশুর হাট বসেছে। মহাসড়কের প্রায় এক থেকে দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে কোরবানির পশু হাট। এ ছাড়া পশু বহনকারী নছিমন, করিমন, ভটভটি ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন রাখা হয়েছে মহাসড়ক ঘেঁষে। এতে মহাসড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীসহ পথচারীদের।
গরু বিক্রেতা জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের লোকজন আমাদের সড়কের ওপর গরু কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছে। কিন্তু জায়গা না থাকায় এবং গরু আমদানি বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে মহাসড়কেই গরু বেচাকেনা করতে হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আখতার বলেন, কিছুদিন আগের রনবাঘা হাটের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। ঈদের পরে আবারও উচ্ছেদ করা হবে।
বৃষ্টিতে বিপাকে বিক্রেতারা
খুলনা অফিস :খুলনায় বিরামহীন বৃষ্টির কারণে কোরবানির পশুর হাটের ব্যবসায়ীরা তাদের পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন। গত দুদিন ধরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি হওয়ায় বৃহস্পতিবার নগরীর জোড়াগেট পশুর হাট অনেকটাই খরিদ্দার শূন্য ছিল। এদিকে গত মঙ্গলবার বিকালে নগরীর জোড়াগেট পশুরহাট উদ্বোধনের পর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চার দিনে মাত্র ২৪৮টি গরু ও ৭৮টি ছাগল বিক্রি হয়েছে।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কদমতলা গ্রাম থেকে দুটি বিশাল সাইজের গরু নিয়ে আসা সত্তোরোর্ধ্ব জাহাঙ্গীর মোল্লা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, এখনো জোড়াগেট পশুর হাটে কোনো ভালো খরিদ্দার আসেনি। বৃষ্টির কারণে গরু বিক্রি করতে না পারলে আমার পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না।
জোড়াগেট পশুর হাটের নিরাপত্তার জন্য র্যাব ও কেএমপির অস্থায়ী দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। হাটে সিসি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। হাসিল নির্ধারণ করা হয়েছে শতকরা পাঁচ টাকা।
খুলনা সিটি করপোরেশনের(কেসিসি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও আইটি সহকারী তরিকুল আলম জানান, গত মঙ্গলবার বিকালে জোড়াগেট পশুরহাট উদ্বোধনের পর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত জোড়াগেট পশুর হাটে মাত্র ২৪৮টি গরু ও ৭৮টি ছাগল বিক্রি হয়েছে। আগামী ১২ আগস্ট ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত হাট চলবে বলে জানান তিনি।
ভোলায় জমে উঠেছে পশুর হাট
ভোলা (দক্ষিণ) :ভোলায় জমে উঠেছে কোরবানরি পশুর হাট। হাটগুলোতে দেশীয় গরুর চাহিদা অনেক বেশি এবং চাহিদার তুলনায় পশুও বেশি রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। আগামী দু-একদিনের মধ্যে বেচা-কেনা আরো বাড়বে বলে আশা করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর পশুর দাম কিছুটা বাড়তি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
গরু ব্যবসায়ী শাহে আলম বলেন, হাটে এ পর্যন্ত কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি, তবে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন না থাকায় অনেকটা দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি।
ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, জেলার অনুমোদিত ৯৩টি হাটে সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ২২টি হাটে পুলিশ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। চাঁদাবাজি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিক পুলিশের মনিটরিং রয়েছে।
কুমিল্লায় দেশীয় গরুর দাম বেশি
কুমিল্লা :শেষ মুহূর্তে এসে কুমিল্লার প্রায় ৪০০ পশুর হাটে কেনাবেচা বেশ জমে উঠেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদভারে মুখর হয়ে উঠেছে পশুর হাটগুলো। তবে এ জেলা সীমান্তবর্তী হলেও হাটগুলোতে এবার ভারতীয় গরুর আধিপত্য না থাকায় দেশীয় গরুর দাম অনেক চড়া বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। এ বছর কুমিল্লায় ৩৯৩টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৪টি স্থায়ী ও ৩৪৯টি অস্থায়ী হাট।
সরেজমিনে জেলার ভারত সীমান্তবর্তী আদর্শ সদর উপজেলার বৌয়ারা বাজার, বিবির বাজার, শিবের বাজার, মুন্সীরহাট ও জালুয়াপাড়া হাটে এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিগত বছরগুলোতে এসব হাটে ভারতীয় গরুর আধিপত্য ছিল, কিন্তু এবার এসব হাটে বেশিরভাগ অংশ জুড়ে দেশি গরুর সমাগম। এতে বিক্রেতা ও ব্যাপারীরা খুব আনন্দিত।
নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকার ক্রেতা জালাল উদ্দিন জানান, গত বছর যে গরু ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছি, সেই গরু এবার ৭২ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, কোরবানির হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শায়েস্তাগঞ্জে পশুর হাট জমজমাট
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ):হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র জমে উঠেছে কোরবাণির পশুর হাট। উপজেলার পশুর হাটগুলোতে প্রতিদিন মানুষের ভিড় বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাইকারি গরু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবার গরুর দাম অন্য বছরের চেয়ে একটু কম। কোরবানি উপলক্ষ্যে বাজারগুলোতে এবার পশু সরবরাহ অনেক বেশি। তবে কোরবানির পশুর মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা যায়।
গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জ থানা সংলগ্ন গরুর বাজার, নতুনব্রিজ বাজার, বাছিরগঞ্জ বাজারে বিভিন্ন আকারের প্রচুর গরু বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ গরু ছোটো ও মাঝারি আকারের এবং বড়ো আকারের গরুগুলোর ক্রেতা বাজারে কম তাই আলাদা করে রাখা হয়েছে। ক্রেতা বিক্রেতার সহিত আলাপ করে জানা যায়, বাজারে এক থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের গরু বিক্রি এখনো শুরু হয়নি। মাঝারি আকারের গরু ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে।
