এনডিটিভি
কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। বৃহস্পতিবার তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতেও দেশ দুটিকে অনুরোধ জানিয়েছেন। গুতেরেস তার আহ্বানে সিমলা চুক্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। ঐ চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই কাশ্মীর বিরোধ মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কাশ্মীর ইস্যুতে তাদের পররাষ্ট্রনৈতিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মর্গান অর্টেগাস এ তথ্য জানান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তান উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
গত সপ্তাহে ভারতের পার্লামেন্ট তাদের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে জম্মু ও কাশ্মীরকে যে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল তা তুলে নিয়ে ঐ এলাকাটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার কয়েকদিন পর জাতিসংঘপ্রধান এ বিষয়ে মুখ খুললেন। ভারতের ঐ পদক্ষেপকে ‘একতরফা ও অবৈধ’ অ্যাখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এ বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
“মহাসচিব জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি উদ্বেগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনে অনুরোধ করেছেন। তিনি ১৯৭২ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিষয়ক চুক্তির কথা স্মরণ করেছেন, যে চুক্তিটি সিমলা চুক্তি নামে পরিচিত; সেখানে জাতিসংঘের সনদ অনুসারে শান্তিপূর্ণ উপায়ে জম্মু ও কাশ্মীরের চূড়ান্ত মর্যাদা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে,” বলেছেন গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক। কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতায় গুতেরেস জাতিসংঘ কিংবা তার নিজের নাম প্রস্তাব করেননি, জানিয়েছে এনডিটিভি। জাতিসংঘ এর আগে কাশ্মীরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছিল। দুজারিক জানান, মহাসচিব ও জাতিসংঘ সচিবালয় কাশ্মীর উপত্যকার পরিস্থিতির ওপর ‘কড়া নজর’ রাখছে।
ভারত ও পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জাতিসংঘে দেশ দুটির স্থায়ী মিশনের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে; কাশ্মীর নিয়ে মহাসচিবের জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলে কোনো ব্রিফিংয়ের পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান এরই মধ্যে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাত্রা নামিয়ে নিয়েছে; ইসলামাবাদে থাকা ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। সোমবার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্যদিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরজুড়ে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত সেনা। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শতাধিক স্থানীয় নেতাকে। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।
নীতিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র কাশ্মীরকে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে দেখে থাকে। পররাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের দফতরের মুখপাত্র জানান, এই নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আর আসলেও এখানে সেই ঘোষণা দেওয়া হতো না। যুক্তরাষ্ট্র কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপের পক্ষে বলে জানান তিনি। মর্গান অর্টেগাস বলেন, ‘আমরা সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানাই। আমরা সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি দেখতে চাই এবং কাশ্মীরসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভারত-পাকিস্তানের সংলাপকে সমর্থন করি।’ এই বিষয়ে দুই দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
