সারা বিশ্বে রাজনীতিবিদদের একটি সাধারণ প্রবণতা হইল—নির্বাচনের পূর্বে জনগণের সামনে নানা প্রতিশ্রুতি প্রদান করা। অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রতিশ্রুতির কোনো আগামাথা থাকে না। তাহারা পূর্বাপর না ভাবিয়া অঙ্গীকার করেন; তাত্ক্ষণিকভাবে জনগণকে প্রলুব্ধ করিতে নানা কথা বলেন। ক্ষমতা লাভের পর সেই অঙ্গীকারের কথা বেমালুম ভুলিয়া যান; জনগণও রাজনীতিবিদদের এইরূপ আচরণের সহিত পরিচিত। ফলে রাজনীতিবিদরাও অনেক সময় অঙ্গীকার রক্ষা না করিয়াও পার পাইয়া যান। সেই কারণে রাজনীতির মাঠে অঙ্গীকার না রাখিবার এই চর্চা চলিতেই থাকে। কিন্তু কোথাও কোথাও ইহার ব্যতিক্রম ঘটিতেও দেখা যায়। জনগণ প্রতিশ্রুতি পালন না করিতে থাকা রাজনীতিককে মনে করিয়ে দেয় তাহার অঙ্গীকারের কথা।
সম্প্রতি এমনই এক চমকপ্রদ ঘটনা ঘটিয়াছে মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় হুইক্সটন প্রদেশের শহর সান আন্দ্রেস পুয়ের্তো রিকোতে। সেইখানে স্থানীয় মেয়র জাভিয়ের জিমেনেজ ও তার এক সহযোগীকে স্কার্ট ও ব্লাউজ পরাইয়া রাস্তায় প্রকাশ্যে ঘুরাইয়াছে নগরবাসী। মেয়রের অপরাধ—তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নগরের পানিসংকটের সমাধান করিতে পারেন নাই। জনগণ পরবর্তী নির্বাচনের অপেক্ষা না করিয়াই মেয়রের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামিয়া আসিয়াছে মেয়রকে সঙ্গে নিয়াই। রাজনীতিবিদদের লইয়া এই ধরনের প্রতিবাদ খুব বেশি ঘটিতে দেখা যায় না। ইহা মনে করাইয়া দেয় জনগণ ক্ষুব্ধ হইলে অনেক কিছুই ঘটিতে পারে।
এই ঘটনা হইতে তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতিবিদদেরও শিক্ষা লাভের ও সতর্ক হইবার সুযোগ রহিয়াছে। তৃতীয় বিশ্বের অনেক রাজনীতিকও নানা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি প্রদান করিয়া থাকেন এবং বাস্তব-অবাস্তব কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি পালনের প্রতিই তাহাদের ন্যূনতম গরজ লক্ষ করা যায় না। প্রথমত, যেই অঙ্গীকার তাহারা রাখিতে পারিবেন না তাহা কেন প্রদান করিতে হইবে? দ্বিতীয়ত, জনগণকে ঠকানোই যদি তাহাদের একান্ত লক্ষ্য না হইয়া থাকে তাহা হইলে অসম্ভব নানা অঙ্গীকার প্রদান না করাই শ্রেয়; কারণ দিন শেষে জনগণের কাছেই তাহাদের ফিরিতে হইবে। সুতরাং প্রতিশ্রুতি প্রদানের পূর্বে ভালো করিয়া ভাবিয়া দেখিতে হইবে—তাহা রক্ষা করা যাইবে কি না। মনে রাখিতে হইবে—‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।’ তাই ইহার প্রত্যাশিত যে, রাজনীতিবিদেরা অযথা অবান্তর অঙ্গীকার প্রদান থেকে বিরত থাকিবেন এবং যেই সুচিন্তিত প্রতিশ্রুতি তাহারা দিবেন তাহা যথাযথভাবে পালন করিবেন।
