প্রকাশ ঘোষ বিধান
মুসলমানদের বড় দুটো ধর্মীয় উত্সবের একটি হলো ঈদুল আজহা, যা কোরবানির ঈদ নামে পরিচিত। আরবি ঈদুল আজহার আভিধানিক অর্থ হলো ত্যাগের উত্সব। আর আরবি ‘কুরবানি’ শব্দের অর্থ যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। শব্দটি আবার ত্যাগ করা, বিসর্জন দেওয়া ও উত্সর্গ করা অর্থে ব্যবহূত হয়ে থাকে। ঈদুল আজহার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো আল্লাহর নামে কুরবানি করা। নিয়ম অনুসারে কুরবানির গোস্ত তিন ভাগ করে একভাগ কুরবানিদাতা রেখে একভাগ আত্মীয়স্বজন ও একভাগ গরিবদের মাঝে বিতরণ করতে হবে।
আমরা জানি ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। ঈদের আনন্দ একার নয়, যে খুশি ছড়িয়ে যাবে সবার মাঝে। ধনী-গরিব কোনো ব্যবধান নয়। সবার মাঝে আনন্দ ভাগাভাগি করলে তা হবে মহা আনন্দের উত্সব। যে খুশির কোনো সীমা থাকবে না। আমাদের সমাজে সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা রয়েছে, যারা টোকাই বা পথশিশু হিসাবে পরিচিত। রাজধানীসহ সারা দেশে কয়েক লাখ পথশিশু রয়েছে। তারা পরিবার বা পরিবারহীন ভাসমান জীবনযাপন করে। বিআইডিএস ও ইউনিসেফের এক গবেষণামতে, দেশে ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৮ জন পথশিশু রয়েছে। যাদের ৮০ ভাগেরই জন্ম হয় পথে। তাদের বেড়ে ওঠা ও বসবাস ফুটপাতে। স্বজনহারা অনেক শিশু শহরে এসে এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। তাদের পথই ঠিকানা। যাদের দেখভাল করার কেউ নেই। তাদের দিন কাটে অন্যের দয়ার ওপর। অবহেলা-অযত্নে বেড়ে ওঠা এই শিশুরা আমাদের এই সমাজেরই সন্তান।
আমাদের সমাজে প্রচুর ধনী ব্যক্তি আছেন। তাঁরা নিজেদের জন্য অনেক খরচ করেন। ঈদে নিজেদের বাচ্চাদের কেনাকাটায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করে থাকেন। সেই কেনাকাটার মধ্য থেকে একটু খরচ বাঁচিয়ে পথশিশুদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া সম্ভব হলে তারাও ঈদ আনন্দে মেতে উঠতে পারবে। পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে না। শুধু প্রয়োজন একটু সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব। তারা আমাদের ভালোবাসার দাবিদার। এসব পথশিশুর বাবা-মা চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এদের অনেকের সংসার চলে ভিক্ষার ওপর। আমরা সবাই মানুষ। আমাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব রয়েছে তাদের প্রতি। আশেপাশের এইসব শিশুকে আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতা দিতে হবে, যাতে তাদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।
খুলনা
