পুলিশের ওপর জঙ্গি হামলার পরিকল্পনায় ‘উলফ প্যাক’

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩৩

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নব্য জেএমবির ‘উলফ প্যাক’ এর পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গ্রেফতারকৃতরা হলো—মোহাম্মদ শিবলী শাহাজাদ ওরফে সাথী, শাহ এম আসাদুল্লাহ মর্তুজা কবীর ওরফে আবাবিল, মাসরিক আহমেদ, আশরাফুল আল আমীন ওরফে তারেক ও এস এম তাসনিম রিফাত। এদের মধ্যে দুজন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল ওরা। কিন্তু গোয়েন্দা নজরদারি ও আগাম অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গিদের সেই পরিকল্পনা নস্যাতের দাবি করেছেন সিটিটিসির প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে এমন কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে সম্প্রতি খামারবাড়ি ও পল্টন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া আইইডির সঙ্গে মিল রয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা দেশের ও বিদেশের কিছু সন্ত্রাসী সংগঠনের অনলাইন প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পুলিশকে টার্গেট করে হামলার পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের জন্য পরামর্শ করতে মিলিত হয়েছিল। লোন উলফ বা একাকী শিকারি যাকে একাকী মুজাহিদ বলে জঙ্গিরা। উলফ প্যাক সেরকমই। এরা স্লিপার সেলের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে তাদের সাংগঠনিক কোনো ভিত্তি নেই বা সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। এরা ‘সেলফ র্যাডিক্যালাইজড’ হয়ে ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করে গ্লোবাল জিহাদ এগিয়ে নেওয়ার কথা বলে হামলার পরিকল্পনা করে।

সিটিটিসির এই কর্মকর্তা আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শিবলী একটি ইস্তেহাদি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আবাবিল ছিল তাদের আধ্যাত্মিক নেতা। ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজ করত। এই হামলা চালাতে যে অর্থ লাগত ডার্ক ওয়েব থেকে তা সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। আমাদের কাছে অর্থ সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রমাণও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মাশরিক আহমেদের দায়িত্ব ছিল সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র সংগ্রহ করা। সে যশোরের বাসিন্দা। এছাড়া, তারেক ও তাসনিম রিফাত মূলত সদস্য সংগ্রহের কাজ করত। এই পাঁচ জনের সঙ্গে আরো কিছু নাম পেয়েছি। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে পুরো গ্রুপটি সম্পর্কে জানা যাবে। আমরা বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখতে গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছি।’

সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, এই গ্রুপের পাঁচ সদস্যের মধ্যে সাদী ২০১৪ সাল থেকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত। হলি আর্টিজানে হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত বাসারুজ্জামান চকলেটের মাধ্যমে সে জঙ্গিবাদে জড়ায়। তারা একসঙ্গে কলাবাগান এলাকার আলামিন মসজিদে ‘হালাকা’ (একত্রিত হওয়া) করত।

সিটিটিসির উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আবাবিল অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। এরপর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়তে গিয়ে তারা পরস্পর পরিচিত হয়ে ‘উলফ প্যাক’ গ্রুপটি গড়ে তোলে। আবাবিলের বন্ধু হলো মাশরিকের মাধ্যমে তাসনিম রিফাত এই গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এই গ্রুপটির কাছ থেকে পুলিশের ওপর হামলার এমন কিছু কৌশল জানতে পেরেছেন, যা সত্যিই উদ্বেগের। বিষয়টি ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দফতরের মাধ্যমে সারাদেশের সব ইউনিটকে জানানো হয়েছে। কৌশলগত কারণে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে চাইছেন না। শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ‘তাগুত বাহিনী’ আখ্যায়িত করে তাদের টার্গেট করে আসছিল জঙ্গিরা। গত কয়েক বছর ধরে সেই প্রবণতা আরো বেড়েছে।