মসলার বাজার ‘গরম’

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩৪

মুন্না রায়হান

কোরবানির ঈদে যে পণ্যগুলোর চাহিদা বাড়ে সবচেয়ে বেশি তারমধ্যে মসলা অন্যতম। কারণ, মাংস রান্নার প্রধান উপকরণ এই মসলা। তাই প্রতি বছর কোরবানির ঈদ এলেই মসলার দাম বাড়বে এটাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত গত রোজার ঈদের পর থেকেই প্রায় সব ধরনের মসলার দামই বাড়তি। এরমধ্যে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, এলাচ, জিরা, দারুচিনির দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এদিকে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আদা, রসুনের দাম আরেক দফা বেড়েছে।

গতকাল শুক্রবার নিউমার্কেট ও কাওরান বাজারসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে মসলার দামের এ তথ্য জানা যায়। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) তাদের বাজারদরের এক প্রতিবেদনে দাম বাড়ার কথা জানিয়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, আমদানিকৃত রসুন ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা বিক্রি হয়। যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে মানভেদে আদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। গত এক সপ্তাহের মধ্যে দাম বেড়েছে আমদানিকৃত পেঁয়াজের। কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।

গত এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি এলাচে দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা। বর্তমানে বাজারে ভালো মানের এক কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়।

দারুচিনির কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। জয়ত্রী কেজিতে ২০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

অন্যান্য মসলার মধ্যে লবঙ্গ ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা, জিরা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেজপাতা ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, গোলমরিচ (সাদা/কালো) ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, জয়ফল ৪৫০ থেকে ৯০০ টাকা, কিসমিস ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, আলুবোখারা ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা, পোস্তদানা ৯৫০ থেকে ১১৫০ টাকা, কাজুবাদাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শুকনা মরিচ ও হলুদ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, ধনিয়া ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কাওরান বাজারের মায়ের দোয়া ডিপার্টমেন্ট স্টোরের এক বিক্রেতা জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে মসলার চাহিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে মসলার বাজার ওঠানামা করে আমদানির উপর। তিনি বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে প্রণোদনা উঠিয়ে দেওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। দেশি আদা, রসুনের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম। এজন্য নির্ভর করতে হয় আমদানির উপর। এসব করণেই দাম একটু বেড়েছে। তবে ঈদের পর দাম কমবে বলে আশা করছি।