ভারতের মেঘালয়ের খনি থেকে কয়লা উত্তোলন ও রপ্তানি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে টানাপোড়েন চলছে। আইউন জটিলাতায় প্রায় সময় কয়লা আমদানি বন্ধ হয়। আবার কিছুদিন পর আমদানি শুরু হয়। আমদানি শুরু আর বন্ধের গ্যাঁড়াকলে পড়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কয়লা আমদানির জন্য এলসি করে তারা অস্বস্তিতে ভোগেন প্রায়ই। এমনিভাবে বর্তমানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কয়লা আমদানি খাতে এলসির ১০০ কোটি টাকা সে দেশের ব্যাংকে আটকা পড়ে আছে দীর্ঘদিন থেকে। ‘এখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া আর পথ দেখছি না,’ বলেন, সিলেট কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি চন্দন সাহা। তিনি বলেন, তবে আগামী মাসে কয়লা রপ্তানি করার বিষয়ে সে দেশের ব্যবসায়ীরা চেষ্টা করছেন বলে শুনেছি। তিনি বলেন, রপ্তানির বিষয়ে ভারতেরই গরজ বেশি।
বছরের এই সময়ে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা কয়লা আমদানি করে মজুত করেন। অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন ইটভাটায় মজুতকৃত কয়লা সরবরাহ করা হয়। কিন্তু মেঘালয়ের কয়লা আমদানি করা না গেলে এবার কয়লা মজুত করা যাবে না। ফলে ইট পোড়ানোর মৌসুমে ভাটায় ইট সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে মেঘালয়ের পাহাড়ে বিশেষ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনে পরিবেশের ক্ষতি হয় মর্মে মেঘালয়ের একটি পরিবেশবাদী সংগঠন সে দেশের উচ্চ আদালতে ২০১৪ সালে মামলা করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে কয়লা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। পরে সে দেশের রপ্তানিকারকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উত্তোলিত কয়লা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে আদালত। ২০১৮ সালের ১ জুন থেকে বন্ধ হয়ে যায় কয়লা আমদানি। পরে ঐ বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও আবার ১৫ জানুয়ারি থেকে আদালতের অপর এক আদেশে আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। চার মাস বন্ধ থাকার পর গত ১৭ মে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট মেঘালয় থেকে শুধু উত্তোলিত কয়লা ৩১ মে পর্যন্ত রপ্তানির অনুমতি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ মে থেকে সুনামগঞ্জের বড়ছড়া ও বাগলী সীমান্ত দিয়ে কয়লা আমদানি শুরু হয়ে ৩১ মে পর্যন্ত চলে।
০
