কাশ্মীরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জুমার নামাজ আদায়, ইন্টারনেট আংশিক চালু

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৭

কারফিউ এবং নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও গতকাল শুক্রবার ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জুমার নামাজে উপস্থিত হয়েছিলেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। তবে রাজধানী শ্রীনগরের প্রধান মসজিদ বন্ধ রাখা হয় এবং সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কঠোর করা হয়। এরই মধ্যে গতকাল থেকে কিছু এলাকায় ইন্টারনেট আংশিক চালু হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে। আর দিল্লি বাস্তবতাকে মেনে নিতে ইসলামাবাদের প্রতি আহবান জানিয়েছে। পাকিস্তানের মিত্র চীন কাশ্মীর সমস্যা দ্বিপাক্ষিকভাবে মেটানোর আহবান জানিয়েছে। খবর এনডিটিভি, বিবিসি ও ডনের

জুমার নামাজ আদায়

গতকাল ছিল মুসলমানদের সাপ্তাহিক পবিত্র দিন জুমা। শ্রীনগরের পুলিশ প্রধান জানান, নামাজ উপলক্ষ্যে মসজিদ আছে এমন এলাকায় কারফিউ শিথিল করা হয়। বার্তা সংস্থা এপি জানায়, শ্রীনগরে স্থানীয় সময় ১২টা ৩৭ মিনিটে নামাজ শুরু হয় এবং ২০ মিনিট পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করেন মুসল্লিরা। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, অবশেষে থমথমে পরিবেশ কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীরে। উপত্যকার অংশবিশেষে ফেরানো হয়েছে ইন্টারন্টে ও টেলি-সংযোগ। এর আগে বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পবিত্র ঈদ-উল আজহা উপলক্ষ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করেছিলেন। অন্যদিকে কাশ্মীরে ঢুকতে পারেননি ভারতের রাজনৈতিক দল সিপিএম’র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদের মতোই শ্রীনগর বিমানবন্দরেই আটক করা হয় তাকে। সঙ্গে আটক করা হয় সিপিআই নেতা ডি রাজাকেও।

রেল যোগাযোগও বন্ধ করলো পাকিস্তান

শুক্রবার পাকিস্তান সরকার জানায়, থর এক্সপ্রেস যে ট্রেনটি ভারতের সঙ্গে রেলপথে সংযোগ রক্ষা করে তা বন্ধ রাখবে, এর একদিন আগে তারা সমঝোতা এক্সপ্রেসও বন্ধ করে দিয়েছিল যা লাহোরের সঙ্গে দিল্লিকে যুক্ত করেছিল। এছাড়া ভারতের সঙ্গে সাংস্কৃতিক যোগাযোগও বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।

বাস্তবতাকে মেনে নিন : দিল্লি

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভীশ কুমার বলেছেন, পাকিস্তানের উচিত বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া। তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে কিছু একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আসলে পাকিস্তান চাইছে দুই দেশের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করে বিশ্বের দরবারে উদ্বেগ তৈরি করতে। রাভীশ কুমার বলেন, ৩৭০ ধারা সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সম্পূর্ণ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই এ বিষয়ে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপ কখনো সফল হবে না। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল সংক্রান্ত বিলে স্বাক্ষর করেছেন।

দ্বিপাক্ষিকভাবে মেটান : চীন

চীন সফর করছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। এরই মধ্যে কাশ্মীর ইস্যুতে একটি বিবৃতি দেয় বেইজিং। এতে পাকিস্তান এবং ভারত উভয়পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহবান জানিয়েছে চীন। কোনো পক্ষেরই উচিত নয় একতরফাভাবে কিছু পরিবর্তন করা। সবার উচিত উত্তেজনা প্রশমনে সচেষ্ট হওয়া।