কোরবানির কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণে বৈষম্য

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৮

নেতিবাচক প্রভাব চট্টগ্রামের বাজারে

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ নিয়ে বৈষম্য হচ্ছে। ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ১০ টাকা কম নির্ধারণ করা হয়েছে। আগেই মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ায় কোরবানির দিন কাঁচা চামড়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। গত বছর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চট্টগ্রামে অনেককেই চামড়া খালে-নদীতে ফেলে দিতে দেখা গেছে। অথচ কোরবানি ছাড়া বছরের অন্য সময়ে কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ থাকে না। বর্তমানে কাঁচা চামড়া প্রতি বর্গফুট ৫৫/৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশে বছরে প্রায় ৭০ শতাংশ চামড়া কোরবানির সময় সংগ্রহ করা হয়। কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ বৈষম্যের কারণে ঢাকার বাইরে চামড়ার বাজারে ধস ঠেকানো যাচ্ছে না। কোরবানির দিন পানির দামে চামড়া বিক্রি হয়ে থাকে। গত ৪ বছর যাবত্ কোরবানির কাঁচা চামড়ার বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়ার আড়তদার মুসলিম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ বৈষম্য নিরসন হচ্ছে না। ঢাকা ও চট্টগ্রামে সব কোরবানির পশু উত্তরবঙ্গ থেকে আনা হয়। ফলে মূল্য কম-বেশি হতে পারে না। ট্যানারি মালিকরা দাবি করেন পশু রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ঢাকার বাইরের কোরবানির পশুর চামড়ার গুণগতমানে তারতম্য হয়ে থাকে।’

চামড়ার মূল্য নির্ধারণে বৈষম্য বিষয়ে লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটির সভাপতি তারিকুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে বলেন, এক সময় কোরবানির চামড়া সংগ্রহ নিয়ে প্রতিযোগিতা হতো। কার থেকে কে বেশি দিয়ে চামড়া কিনতে পারে। দেখা গেছে স্থানীয় মাস্তানরা এলাকার চামড়ার নিয়ন্ত্রণ করতো। অথচ এসব মৌসুমী চামড়া সংগ্রহকারীরা বাজার সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। মূল্য নির্ধারণ করায় বেশি দামে কেনার প্রতিযোগিতা হচ্ছে না। আর আড়তদারদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করেন ট্যানারি মালিকরা। সব ট্যানারি ঢাকায় অবস্থিত। ফলে ঢাকায় চামড়া পৌঁছাতে হলে পরিবহন খরচ হয়। ঢাকায় সংগ্রহ করা চামড়ার বেশি পরিবহন খরচ পড়ে না। তাই ঢাকার বাইরে মূল্য কিছুটা কম নির্ধারণ করা হয়েছে।’

চট্টগ্রামে প্রায় দেড় শতাধিক কাঁচা চামড়ার আড়তদার-ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের অভিযোগ নগদে চামড়া কিনে বাকিতে বিক্রি করতে হয়। ঢাকার ট্যানারির কাছে গত বছরের এখনো ৩০/৩৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। ট্যানারি মালিকরা ব্যাংক ঋণের সুবিধা পেয়ে থাকেন। এবারও ব্যাংক ঋণ পেয়েছেন তারা। কিন্তু গত বছরের বকেয়া টাকা পরিশোধ করছে না বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, গত বছর চট্টগ্রামে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪১৫টি পশু কোরবানি হয়েছে। এবার ৭ লাখ কোরবানির পশুর প্রয়োজন হতে পারে। এবার চট্টগ্রামে ৭ হাজার ৫৭টি খামারে ৬ লাখ ১০ হাজার ২১৯টি পশু রয়েছে।