কমছে না হামের সংক্রমণ, মৃত্যু ৬০০ ছাড়াল

টিকা পাওয়ার দুই মাস অতিবাহিত

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:১১

হামের টিকা পাওয়ার দুই মাস অতিবাহিত হলেও, কমছে না হামের সংক্রমণ। গত ৫ এপ্রিল ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এরপর ২০ এপ্রিল শুরু হয় দেশব্যাপী  হামের টিকাদান কর্মসূচি। ৫ এপ্রিল ধরে, ইতিমধ্যে হামের টিকা দেওয়ার ২ মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু হামের সংক্রমণের হার কমছে না। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবরই বলে আসছেন যে—হামের সংক্রমণ কমে এসেছে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। হামের ওই বুলেটিনে দেখা গেছে—প্রতিদিনই প্রায় হাজারের উপরে হামের উপসর্গে নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামে বিষয়ক বুলেটিনের তথ্য মতে— গত ২ জুন হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১২১০জন, ৩ জুন ১১৩৪ জন, ২ জুন ১২৯২ জন, এর আগে ১ জুন ছিল ১১৩৪ জন, ৩১ মে ছিল ১৩২৪ জন, ৩০ মে ছিল ১০৩৩ জন। এর আগে ঈদের ছুটিতে রোগীর এই চাপ কিছুটা কমে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ায় ২৯ মে ছিল ৬৭৪ জন, ২৮ মে ঈদের দিন ছিল ৮২৬ জন, মে মাসে আক্রান্ত প্রতিদিনই হাজারের উপরে থাকে—যা ছিল ২৭ মে ১০৫৬ জনে, ২৬ মে ছিল ১০৮৩ জন, ২৫ জন ছিল ১২২৭ জনে।  

টিকা দেওয়ার ২ মাস পেরিয়ে গেলেও কেনো হমের সংক্রমণ থামছে না—এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, টিকার কাভারেজটা ভালো মতো হয় নাই। টিকাদান কার্যক্রম যখন শুরু হয়, তখনেই আমরা বলেছিলাম—যথেষ্ট প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই যে ভাবে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তাতে ৯৫ ভাগ কাভারেজ পাওয়াই কঠিন। কারণ এটা অন্য টিকার মতো না যে, কাভারেজ কিছু কম হলেও কাজ হবে। হামের টিকার কাভারেজ ৯৫ ভাগের কম হলে এর সংক্রমণ হতে থাকবে, আর এবার সেই ঘটনাটাই ঘটেছে।

এই জনস্বাস্থ্যবিদ বলেন, কারণ এই টিকাটা তো সাধারণ টিকার মতো না। হামের টিকা ৯ মাসে এবং ১৫ মাসে দেয়া হয়। কিন্তু এই টিকা তো দেওয়া হচ্ছে ৬ মাস থেকে— তাহলে বয়স পরিবর্তন হয়েছে। আবার দেওয়া হচ্ছে ৫৯ মাস পর্যন্ত, তার মানে ১৫ মাসেরও পরিবর্তন হয়েছে। এই যে পরিবর্তনগুলো—তা অনেক মা জানেন না, কেনোনা তাদের জানানোর জন্যে অনেক প্রচার-প্রচারণা হয়নি। দ্বিতীয়ত, অভিভাবকদের দ্বিধা থাকবে—যে ৯ মাসের জায়গায় ৬ মাসে টিকা দিব, কোন ক্ষতি হবে না তো! কিংবা ৯ মাসের জায়গায় ৫৯ মাসে টিকা দিব—আমার বাচ্চার কোন ক্ষতি হবে না তো! এই বিষয়গুলো যদি আগে থেকে রেডিও, টিভি, মাইকিং, স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা করতো, তাহলে আমাদের এই হাই কাভারেজটা পাওয়ার সম্ভাবনাটা ছিল। আমার ধারণা বহু পকেট রয়েছে—যেখানে ৯৫ ভাগ কাভারেজ পাওয়া যায়নি। তার ফলেই ভাইরাসের সংক্রমণ থামানো যাচ্ছে না।  

ডিএনসিসি হাসপাতালের প্রসাশনিক কর্মকর্তা ডা. আসিফ হায়দার ইত্তেফাককে বলেন, হামের  সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। কারণে ঈদের পর থেকে দেখা যাচ্ছে— ভর্তি হচ্ছে প্রতিদিন ১০০ নিচে। তবে সেটা ঈদের ছুটির কারণেও হতে পারে বলে জানান এই চিকিত্সক। তিনি বলেন, এখন আমাদের আইসিইউতে ৫৪ জন রোগী আছে, গত ২৪ ঘন্টার তথ্য এটা। দুইটা বেড এখনো ফাঁকা। আর পিআইসিউিতে আমাদের পাঁচটা বেড চালু করা হয়েছে।

সারাদেশে হাম পরািস্থতিঃ এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যৃ হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। এনিয়ে হামে উপসর্গে এ পর্যন্ত ৫১১ জনের মৃত্যু হল। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯০ শিশুর। এই দুইয়ে মিলে হাম ও উপসর্গে শিশুমৃত্যু বেড়ে দাড়ালো ৬০১ জনে।  গত ২৪ ঘন্টায় হাম হাসপাতালে ভর্তি হাম রোগীর সংখ্যা ১০৫২ জন।   

ইত্তেফাক/এনএন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন