‘কে বেশি ত্যাগী’— তর্কের জেরে বিএনপি নেতাকে পেটালো যুবদলের নেতাকর্মীরা

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ২১:০৩

গত ১৬ বছর কে বে‌শি নির্যাতিত হয়েছে এবং কার ত্যাগ বেশি— এ নি‌য়ে ত‌র্কের জে‌রে জেলা বিএন‌পির এক নেতাকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে যুবদ‌লের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্প‌তিবার (৪ জুন) দুপু‌রে নারায়ণগঞ্জ জেলা প‌রিষদ প্রাঙ্গ‌ণে হামলার ওই ঘটনা ঘ‌টে। হামলায় জ‌ড়িতরা সবাই জেলা যুবদ‌লের সদস‌্যস‌চিব ম‌শিউর রহমান র‌নির অনুসা‌রী বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিএন‌পির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসি‌ডেন্ট জিয়াউর রহমা‌নের ৪৫তম শাহাদাৎ বা‌র্ষিকী উপল‌ক্ষে জেলা প‌রিষদ নানা কর্মসূ‌চির আয়োজন ক‌রে। আহত বিএন‌পি‌ নেতা ওকিল উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

ঘটনার আকস্মিকতায় জেলা প‌রিষদ প্রাঙ্গণে আয়ো‌জিত মেলার স্ট‌লে থাকা লোকজন হতবাক ও ভীতসন্ত্রস্ত হ‌য়ে প‌ড়েন। ঘটনার এক‌টি ভি‌ডিও সামাজিক যোগা‌যোগমাধ‌্যম ফেসবু‌কে ছ‌ড়ি‌য়ে প‌ড়েছে।

উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গে‌ছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষ মেলা, বই মেলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও জিয়াউর রহমানের দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

আর এই কর্মসূচি উপলক্ষ্যে জেলা পরিষদে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আসেন। মূলত এই কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলাকালে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি ও বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াও উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

অনুষ্ঠা‌নের উদ্বোধন ক‌রেন জেলা বিএন‌পির আহ্বায়ক ও জেলা প‌রিষ‌দের প্রশাসক মামুন মাহমুদ। অনুষ্ঠান উদ্বোধ‌নের পর ফ‌টো‌সেশ‌নের সময় জেলা যুবদ‌লের সদস‌্যস‌চিব ম‌শিউর রহমান র‌নি উপ‌স্থিত সবাইকে উদ্দেশ‌্য ক‌রে ব‌লেন, গত ১৬ বছর আন্দোলন সংগ্রা‌মে অনেককে দেখা না গে‌লেও এখন ছ‌বি তোলার সময় অনেকেই অগ্রগামী। ওই সময় বিএন‌পি নেতা ওকিল উদ্দিন র‌নি‌কে উদ্দেশ‌্য ক‌রে ব‌লে উঠেন, আপ‌নিও তো গত ১৬ বছর রাজপ‌থে ছি‌লেন না। এ নি‌য়ে উভ‌য়ের ম‌ধ্যে তর্ক শুরু হয়।

জানতে চাইলে বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে মশিউর রহমান রনির সঙ্গে আমার তর্ক বিতর্ক হয়। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএন‌পির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ অন্যান্য নেতারা একত্রে বসে আমাদের মিলিয়ে দেন। এরপর আমি জেলা পরিষদের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়। আমি এই ঘটনায় মামলা দায়ের করবো।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, প্রথমে আমাদের দুইজনের মাঝে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো। পরে নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে উভয়পক্ষ‌কে মিল‌মিশ ক‌রি‌য়ে দেন। কিন্তু অতি উৎসাহী কিছু কর্মী কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে ওই ঘটনা ঘটায়। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, এই ঘটনায় আমাদের কাছে কেউ কোনো ধরনের অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা গেছে।

ইত্তেফাক/এপি