উদ্বোধনের আগেই ১৪ কোটি টাকার মডেল মসজিদে ফাটল, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১৩:১২

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনের আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদ ভবনের দেয়াল, প্লাস্টারসহ বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় ফাটলের চিহ্ন রয়েছে। এখনও ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কিংবা পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার শুরু না হলেও এমন ত্রুটি দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত স্থাপনাটি ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, ত্রুটি ধরা পড়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত কিছু মেরামতের কাজ শুরু করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি মসজিদ নির্মাণে গড়ে ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

উদ্বোধনের আগেই ফাটল ধরেছ ভালুকার মডেল মসজিদে।

ভালুকা মডেল মসজিদটি নির্মাণ করেছে নাঈমা এন্টারপ্রাইজ। ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা এ ভবনে নারী ও পুরুষের পৃথক নামাজের ব্যবস্থা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ সুবিধা, লাইব্রেরি এবং গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, হস্তান্তরের আগে যাচাই কমিটির সদস্যদের নিয়ে পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটলসহ কিছু ত্রুটি শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ত্রুটি সংশোধনের পর পুনরায় পরিদর্শন করা হবে। সবকিছু সন্তোষজনক হলে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় মসজিদটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজারকে সদস্যসচিব করে সাত সদস্যের একটি যাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহমিদ ইফতেখার আলী বলেন, কিছু ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় ঠিকাদারকে দ্রুত সেগুলো সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে কিছু সময় দেওয়া হয়েছে। ত্রুটি সংশোধন শেষে মসজিদটি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ইত্তেফাক/এসজেএস