লালমোহনে আশ্রয়ণ প্রকল্পে মানবেতর জীবন যাপন!

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৭

লালমোহন উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে মানবেতর জীবন-যাপন করছে বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর অনেকটাই এখন বসবাসের অনুপযোগী। কোনো কোনো প্রকল্পের টিনের চালা, বেড়া, জানালা-দরজা এমনকি টয়লেট পর্যন্ত নেই। এ অবস্থায় স্যাঁতসেঁতে ও নোংরা পরিবেশে বেড়ে ওঠছে প্রকল্পে বসবাসরত নারী ও শিশুরা। শিশুদের সারা বছর রোগ-বালাই লেগেই থাকে। শুষ্ক মৌসুমে দূষিত বায়ুর দুর্গন্ধ আর বর্ষায় কাদা পানি সহ্য করেই চলতে হয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১৯টি আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। এর পর থেকে সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পে। এরই মধ্যে ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর, তারপর আইলা, রেশমা এবং রোয়ানুসহ কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ে তছনছ হয়ে যায় এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পের অবকাঠামো। ক্ষতিগ্রস্ত ও জরাজীর্ণ এসব প্রকল্পে বসবাস করতে না পেরে অনেক বাসিন্দা নদী সংলগ্ন বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। আবার অনেক বাসিন্দা ভাসমান নাগরিক হয়ে চলে গেছে শহর বন্দরে। এই সুযোগে ফাঁকা ঘরে গবাদি পশু পালন করছে স্থানীয়রা। উপজেলার ৮নং রমাগঞ্জ ইউনিয়নের বেতুয়া নদের পাশে নির্মিত রায়চাঁদ আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঠাঁই ৬০ পরিবারের। প্রকল্পের বাসিন্দা কল্পনা, বিলকিস, ফুলজান ও নাছরিনসহ অনেকে জানান, তারা প্রায় ১২ বছর ধরে বসবাস করছেন এই প্রকল্পে । শুরুটা কোনো রকমে বসবাস করা গেলেও এখনকার অবস্থা একেবারে অমানবিক। এক কথায় বলতে গেলে এই প্রকল্পে বসবাসরত ছয়টি ব্যারাকের ৬০টি পরিবার নিদারুণ কষ্ট ভোগ করছে। তারা আরো জানান, গেল কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ে তাদের ব্যারাকের চালা ও বেড়া উড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত এসব প্রকল্পে বাস করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়া নিবারণের জন্য অনেকে হোগলা পাতার বেড়া ও চালে পলিথিন দিয়ে কোনো রকমে বসবাস করছেন। আর এই প্রকল্পের ৬০টি পরিবারের মধ্যে প্রায় ৩০ পরিবারেরই টয়লেট নেই। ঘরের পেছনে বেতুয়া নদে মাথা গুঁজে সারতে হয় তাদের প্রকৃতির কাজ।

প্রায় একই রকম জানালেন, পার্শ্ববর্তী  লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের নীলিমা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আমেনা বেগম, রুমা ও আজমত উল্লাহ। সরেজমিনে দেখা গেছে, নীলিমা ও রায়চাঁদ আশ্রয়ণ প্রকল্পের মতো একই অবস্থায় রয়েছে অন্নদা প্রসাদ বেতুয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, কচুয়াখালী সুগন্ধা আশ্রয়ণ প্রকল্প, কচ্ছপিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, চতলা গোধুলী আশ্রয়ণ প্রকল্প, চরকচ্ছপিয়া চন্দ্রিমা আশ্রয়ণ প্রকল্প, চরলক্ষী শিউলী আশ্রয়ণ প্রকল্প, পশ্চিম চরকচুয়াখালী আশ্রয়ণ প্রকল্প, কচ্ছপিয়া রজনীগন্ধা আশ্রয়ণ প্রকল্প, চতলা মহাজন আশ্রয়ণ প্রকল্প, ফরাজগঞ্জ গোমতি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ আরো বেশ কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্প।

লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আবুল কাশেম বলেন, আমার ইউনিয়নেই রয়েছে আটটি প্রকল্প। যেখানে প্রায় এক হাজার দরিদ্র ভূমিহীন পরিবার বাস করছে। প্রকল্পগুলো সংস্কার করা হলে বাসিন্দারা উপকৃত হবে। 

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল হাসান রুমি বলেন, আমি যোগদান করার পর নিজ উদ্যোগে কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জরাজীর্ণ প্রকল্পগুলো সংস্কারে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।