স্পোর্টস রিপোর্টার
সময়টা ভালো কাটছে না তামিম ইকবালের। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আছেন বিষম চাপে। বিশ্বকাপে প্রত্যাশার দাবি মেটাতে পারেনি তার ব্যাট। টুর্নামেন্টে ২৩৫ রান করলেও তামিমের ব্যাটিংয়ের ধরন, স্ট্রাইক রেট দেশজুড়ে তুমুল সমালোচনার খোরাক যুগিয়েছে।
বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে। সেখানেও ফ্লপ এই বাঁহাতি ওপেনার। তিন ম্যাচে করেছেন মাত্র ২১ রান। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দলও লঙ্কা সফরে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সফরের পর সাকিব আল হাসান বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছিলেন তামিমকে। সতীর্থের পরামর্শটা হয়তো মনে ধরেছে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের। সেই পথে হাঁটছেন তিনি।
আগামী মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ও ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তামিম। এই হোম সিরিজে বিশ্রাম চেয়ে বিসিবির কাছে চিঠি দিয়েছেন এই ওপেনার।
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান গতকাল ক্রিকবাজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্রাম চেয়ে তামিমের চিঠি দেয়া প্রসঙ্গে বিসিবির এই পরিচালক গতকাল বলেছেন, ‘এই বিষয়ে তামিমের কাছ থেকে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। ঈদের ছুটির পর আমরা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরতির এই সময়ে তামিম চলে যাবেন দেশের বাইরে। জানা গেছে, বিদেশে ফিটনেস ও ব্যাটিং নিয়ে কাজ করবেন তিনি। নভেম্বরে বাংলাদেশের ভারত সফরে আবার দলে ফিরবেন তিনি। ওই সফরে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে দুটি টেস্ট ও তিনটি টি-২০ খেলবে বাংলাদেশ।
তিন ফরম্যাটে ২১টি সেঞ্চুরির মালিক তামিম। কিন্তু সর্বশেষ ছয় ইনিংসে তার কোনো হাফ সেঞ্চুরি নেই। এমনকি টানা ছয় ম্যাচে বোল্ড হয়েছেন তিনি। নিজের রান না পাওয়া, দেশজুড়ে ব্যর্থতার সমালোচনার ঝড়ে কাতর ৩০ বছর বয়সী এই ওপেনার।
সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় তামিমের ছুটি মঞ্জুর হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশেরও সুযোগ থাকবে ওপেনিংয়ে নতুন জুটিকে দেখে নেয়ার। বিশেষ করে টি-২০ ফরম্যাটে। সম্প্রতি ব্যাটিংয়ে তামিমের ধীরগতি ভাবাচ্ছে সবাইকে। ২০২০ টি-২০ বিশ্বকাপের দলে তার থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ক্রিকেটাঙ্গনের অনেকে। আর তার বিশ্রামের সুযোগে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজে নতুন ওপেনিং জুটি সফলতা পেলে এই ফরম্যাটে তামিমের ফেরা কঠিন হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত তামিমের আবেদন মঞ্জুর হলে সাকিবের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে কোনো সিরিজে স্বেচ্ছায় বিশ্রাম নিবেন তিনি।
আগস্টের শুরুতে তামিমের রান খরা, বাজে সময় প্রসঙ্গে সাকিব বলেছিলেন, ‘একজন ক্রিকেটারের এমন সময় আসতেই পারে। এখন আমার মনে হয় যে ওর জন্য যেটা দরকার, খুব ভালো একটা বিশ্রাম নেওয়া, নিজেকে ফিরে পাওয়া, সজীব হওয়া এবং ভালোভাবে ফিরে আসা। আমি নিশ্চিত ও (তামিম) এটা পারবে।’
শীর্ষ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ার রীতি ক্রিকেট দুনিয়া জুড়ে সবসময় হয়ে আসছে। বাংলাদেশে সাকিব ছাড়া আর কেউ এমন বিশ্রাম পাননি। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলার পর শ্রীলঙ্কা সফরে বিশ্রামে ছিলেন। বর্তমানে পবিত্র হজব্রত পালনে সৌদি আরব আছেন সাকিব। এর আগে ২০১৭ সালেও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুইটি টেস্ট থেকে বিশ্রাম নিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট শুরু হবে ৫ সেপ্টেম্বর। তারপর জিম্বাবুয়ে-আফগানদের নিয়ে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজ চলবে ১৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর।
