এবারও সাড়ে ৭ কিলোমিটার পতাকা টাঙিয়েছেন সেই জার্মান ভক্ত

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১৯:৪৩

ফিফা বিশ্বকাপ উন্মাদনার ঢেউ আছড়ে পড়েছে দেশের আনাচে-কানাচে। আজ আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বিশাল পতাকা র‍্যালি তো কাল ব্রাজিলের পতাকা নিয়ে সমর্থকদের হলুদ-সবুজের শোডাউন। এই ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উন্মাদনার চিরচেনা রূপের মাঝে এবার সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এক জার্মানি ভক্ত।

জার্মানির প্রতি ভালোবাসা থেকে মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সাড়ে সাত কিলোমিটার (৭.৫ কিমি) দীর্ঘ এক বিশাল জার্মান পতাকা প্রদর্শন করে নজর কেড়েছেন ৭০ বছর বয়সি ফুটবলপ্রেমী কৃষক আমজাদ হোসেন।

বুধবার (১০ জুন) সকালে দীর্ঘ এই জার্মান পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শন করেছেন তিনি। ২০৩০ সালের মধ্যে পতাকাটির দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটারে নেওয়ার আশা করছেন তিনি।

মাগুরা পৌরসভার ঘোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন। জার্মানির প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা থেকে প্রায় এক যুগ আগে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুরু করেন তিনি।

আমজাদ হোসেনের জার্মানি প্রীতির নেপথ্যে রয়েছে এক আবেগঘন গল্প। তিনি জানান, একসময় তিনি একটি অত্যন্ত জটিল রোগে ভুগছিলেন। সে সময় কোনো কিছুতেই সুস্থ হচ্ছিলেন না। পরবর্তীতে জার্মানির তৈরি ওষুধ খেয়ে তিনি অলৌকিকভাবে সেই জটিল রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেই থেকে জার্মানির প্রতি তার মনে গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জন্ম নেয়।

পরে ২০০৬ সালে জার্মানিতে ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলে দেশটির প্রতি সম্মান ও উপহারস্বরূপ কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন আমজাদ। সেই বছরই তিনি নিজের জমানো টাকা দিয়ে প্রথম ৩৫০ গজ লম্বা একটি জার্মান পতাকা তৈরি করেন।

এর পর থেকে প্রতি আসরেই নিজের জমানো টাকা দিয়ে পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে আসছেন আমজাদ হোসেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের সময় পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়াতে গিয়ে নিজের ১০ শতক জমিও বিক্রি করে দেন তিনি। সেবার প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে পতাকাটি আরও বড় করেন। আর চলমান এই বিশ্বকাপে এসে তার তৈরি সেই পতাকার দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে সাড়ে সাত কিলোমিটারে।

আমজাদ হোসেন জানান, ভালোবাসা থেকেই এগুলো করেছেন। এবারের সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকাটি জার্মান দূতাবাসের মাধ্যমে জার্মানির কোনো জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। এটি দুই দেশের বন্ধুত্ব ও তাঁর দীর্ঘদিনের ভালোবাসার এক অনন্য স্মারক হয়ে থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

আমজাদ হোসেনের এই উদ্যোগ অতীতেও জার্মান দূতাবাসের নজরে আসে। ২০১৪ সালে তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত মাগুরায় এসে তার পতাকা উদ্বোধন করেন এবং জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি জার্মান ফুটবল ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ লাভ করেন।

২০১৮ সালেও জার্মান দূতাবাসের কর্মকর্তারা তার পতাকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে এবার প্রদর্শনীটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে।

নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আমজাদ হোসেনের এই একনিষ্ঠ ভালোবাসার কারণে তাদের প্রত্যন্ত গ্রামটি সারা দেশে পরিচিতি পেয়েছে। তাদের মতে, কোনো দেশ ও সেই দেশের ফুটবল দলের প্রতি এমন ভালোবাসা বিরল।

 

ইত্তেফাক/এমএসআর