ধুম পড়েছে কেনাকাটায়

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৬

রাত পোহালেই মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উত্সব ঈদুল আজহা। এই ঈদে যদিও পোশাক কেনা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবুও নারীদের টুকিটাকি নতুন কিছু কেনাকাটা করতেই হয়। তাই রাজধানীর শপিংমলগুলো ও মার্কেটজুড়েই নারীদের উপস্থিতি বেশি। কেউ কিনছেন বিছানার চাদর, কেউবা কোকারিজ, কেউ কিনছেন ফ্রিজ।  এক কথায় ঈদের কেনাকাটায় পড়েছে ধুম। মিরপুর পূরবী থেকে ডিপ ফ্রিজ কিনতে এসেছেন মাসুমা আক্তার ও তার স্বামী শামস ফেরদৌস। তারা বলেন, আমরা কিস্তিতে ডিপ ফ্রিজ কিনতে এসেছি। ছয় মাসের সুদবিহীন কিস্তিতে এই ডিপ ফ্রিজ ঈদ উপলক্ষ্যে দিচ্ছে বলেই এই অফারটা নেওয়া। তবে ঈদ উপলক্ষ্যে ফ্রিজের পাশাপাশি, টিভি এবং এসি বিক্রিও বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতা আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে ঈদের সময় কেনাকেনা বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত ও ছোটো পরিবারগুলোই এই কেনাকাটায় আগ্রহী বেশি।

পিছিয়ে নেই পোশাক বা অন্যান্য কেনাকাটা। একটি শপিংমলে কথা হয় আতিয়া আখতার নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, বিছানার চাদর আর কিছু সিরামিকের পণ্যসামগ্রী কিনলাম। ঈদের এ সময়টাতে ঈদ বোনাস হাতে থাকে। তাছাড়া একটা উত্সবকে ঘিরে কেনাকাটা হয়। অন্য সময় হয়তো সেভাবে মনে পড়ে না। তাই ঈদের সময়টাতে এসব কিনতে ভালোই লাগে। এ ছাড়া বাচ্চাদের টুকিটাকি পোশাক ও প্রয়োজনীয় কিছু কিনতেই আসা।

নারীদের কাউকে দেখা যায় নেইলপলিশ কিনতে, কেউ বা কিনছেন একটা ওয়ান পিস কামিজ। কেউবা কিনছেন  উপহারসামগ্রী, কেউ কিনছেন মেহেদি। উঠতি বয়সী তরুণীরা নিজেদের সাজাতে পোশাকের সঙ্গে কিনছেন মানানসই গয়না ও কসমেটিকস । তবে বিউটি পারলারগুলোয় দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়।

পারলারে কেবল চুলের কালার, স্টেট করা ও চুল কাটার কাজেই ব্যস্ত নারীরা। ভিড়ের কারণে দাঁড়ানোর ঠাঁই নেই। একটি বিউটি পার্লারের কর্মী জেনি বলেন, আমরা ঈদ উপলক্ষ্যে কিছু ছাড়ের ব্যবস্থা রেখেছি ফলে চাপ বেড়েছে। এ ছাড়া ঈদের সময়গুলোয় বাড়তি চাপ থাকেই। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, নারী-পুরুষ উভয়েই এখন সচেতন। সবাই কোনো উপলক্ষ্য এলেই নিজেকে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

বিভিন্ন বিউটি স্যালুনে দেখা যায় নারীদের ফ্যাসিয়াল, চুল কাটা, মেনিকিউর, পেডিকিউর, ভ্রু-প্যাক, ফেয়ারপলিস  করছেন নারীরা। ঈদে নারীদের আনন্দের অনুষঙ্গ হিসেবে থাকে—হাত রাঙাতে মেহেদি। মেহেদি ছোটো বড়ো সবার পছন্দ। এ কারণে শপিংমল ও পারলারগুলোয় মেহেদি কর্নার করা হয়েছে। এক হাত রাঙাতে ১০০ টাকা। দুই  হাতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় মেহেদি পরছে নারীরা। বাদ  নেই  শিশু, কিশোর ও তরুণীরা। হাত রাঙাতে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মেহেদি। এগুলোর প্রতিটির দাম ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত।     

রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমলে কসমেটিকসের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে তরুণ-তরুণীদের ভিড়ই বেশি। একটি সুপার শপের একজন বিক্রেতা জানান, বিক্রি খারাপ নয়। তিনি বলেন, আইলাইনার, মাসকারা, আইল্যাশ, নেইলপলিশ, ফেসপাউডার, আইস্যাডো এসব বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যসামগ্রী ও বিক্রি হচ্ছে। যেমন—শ্যাম্পো, লোশন, ক্রিম, ছেলেদের রেজার, আফটার সেভ লোশন, ফোম ইত্যাদি।