যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের একাধিক দেশসহ মোট ২২টি দেশ একযোগে ইরানকে সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা ইরানকে তাদের ভূখণ্ডে হামলা, হত্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রকাশিত এই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের ভূখণ্ডে মানুষ হত্যা, অপহরণ, হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা যেকোনো ধরনের আক্রমণের চেষ্টা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিদেশে অভিযান পরিচালনাকারী শাখা কুদস ফোর্স ইরানি বিরোধী কর্মী, সাংবাদিক এবং ইহুদি-ইসরায়েলের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র ও হামলার সঙ্গে জড়িত।
দেশগুলো জানিয়েছে, এসব হুমকির বিরুদ্ধে নিজেদের দেশ ও নাগরিকদের রক্ষায় আমরা পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ। ইরানকে এ ধরনের সব কর্মকাণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে হবে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইউরোপজুড়ে ইহুদি সম্প্রদায়, ইরান ও মার্কিন সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে যে হামলা চালানো হচ্ছে, তার পেছনে ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী 'হারাকাত আশাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া'।
এর আগে গত বছরের আগস্টে অস্ট্রেলিয়া ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে। অস্ট্রেলিয়া অভিযোগ করে যে, তেহরান অন্তত দুটি ইহুদিবিদ্বেষী হামলার নির্দেশ দিয়েছে। এরপর অস্ট্রেলিয়া তেহরান থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে এবং দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত করে। গত নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও ঘোষণা করে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো: আলবেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, বুলগেরিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, উত্তর মেসিডোনিয়া, নরওয়ে, পর্তুগাল ও সুইডেন।
সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

