কোম্পানিগুলোর সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হলে কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে কোম্পানিগুলো সর্বোচ্চ আড়াই শতাংশ পর্যন্ত কম কর হারের সুবিধা পেতে পারে।
প্রস্তাবিত কর ব্যবস্থায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এবং অ-তালিকাভুক্ত—উভয় ধরনের কোম্পানির কর কাঠামোয় পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব কোম্পানির কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, তাদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সাড়ে ২২ শতাংশ করহার কমে ২০ শতাংশে নামবে। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে—শর্ত হলো সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে হবে।
এছাড়া কার্ডভিত্তিক লেনদেনকে উৎসাহিত করতে পয়েন্ট অব সেলস (পস) মেশিন আমদানির ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যমান সাড়ে ৭ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
ক্যাশলেস অর্থনীতি বিস্তারের অংশ হিসেবে গ্রাম পর্যায়ের দোকানেও পস মেশিনের ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীরা যেন ঘরে বসেই ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের মাধ্যমে ভ্যাট পরিশোধ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও বাজেট প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা; যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা; যা সংশোধিতভাবে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। সে হিসাবে নতুন বাজেটের আকার প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা বেশি।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, বাজেট ঘোষণার পর কর কাঠামোর পরিবর্তন, শুল্ক-ভ্যাট সমন্বয় এবং বিভিন্ন খাতে করছাড়ের প্রভাব বাজারে পণ্যের দাম ও সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এবারের বাজেটে কর বৃদ্ধি ও ছাড়ের ক্ষেত্রগুলো কীভাবে বিনিয়োগ, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে– সেদিকেই এখন সবার নজর।

