মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
লোকসানের মধ্যেও চালু রয়েছে চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়া স্টিমার সার্ভিস। বছরের পর বছর যাবত্ লোকসানে চলছে এই নৌ সার্ভিস। বিআইডব্লিউটিসির নৌ সার্ভিসে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন একেবারে কমে গেছে। তারপরও লোকসানি এই পথে বিপুল অর্থ ব্যয়ে আরো নতুন দুটি জাহাজ যুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে সার্ভিসে চলাচলরত তিনটি জাহাজই মেয়াদোত্তীর্ণ। জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, লোকসান হলেও সরকার জনস্বার্থে এই সার্ভিস চালু রাখতে চাচ্ছে। দ্রুত সার্ভিস দিতে চলতি বছরে নতুন আরো দুটি জাহাজ বহরে যুক্ত করা হচ্ছে। নতুন জাহাজ দুটি চট্টগ্রামে ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নির্মাণ করা হচ্ছে। জাহাজগুলোর নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে।
একসময় চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল পর্যন্ত স্টিমার সার্ভিস চালু ছিল। ২০১১ সালে এই সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়া পর্যন্ত সার্ভিস চালু রয়েছে, কিন্তু মিলছে না পর্যাপ্ত যাত্রী। বর্তমানে প্রতি যাত্রায় ১০০ জনের বেশি যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। নেই পণ্য পরিবহনও। হাতিয়ার অধিকাংশ যাত্রী চেয়ারম্যান ঘাট দিয়ে বোটে যাতায়াত করছে। ফলে চট্টগ্রাম-হাতিয়া স্টিমার সার্ভিসে প্রতিবছরই লোকসান হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বহরে বর্তমানে তিনটি জাহাজ চালু রয়েছে। জাহাজগুলো হচ্ছে এমভি আবদুল মতিন, এমভি মনিরুল হক ও এমভি বার আউলিয়া। জাহাজগুলো ৫০-৬০ বছরের পুরোনো। ইতিমধ্যে বিপুল অর্থ খরচ করে জাহাজগুলো কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় সময় মাঝপথে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বিকল হয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তি বাড়ে যাত্রীদের। তাছাড়া নাব্য কমে যাওয়ায় নৌপথের চ্যানেল পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম-হাতিয়া রুটে সপ্তাহে দুই দিন সার্ভিস চালু রয়েছে। সোমবার ও বৃহস্পতিবার যাত্রী পরিবহন করা হয়। আর একটি জাহাজ সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া পর্যন্ত চলাচল করে। বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (যাত্রী) ফয়সাল আলম চৌধুরী বলেন, ‘চ্যানেলে নাব্য কমে যাওয়ায় সন্দ্বীপে সাগর দিয়ে ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে যাত্রীদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে সাত-আট ঘণ্টা সময় লাগছে। প্রতি যাত্রায় ১০০ জনের বেশি যাত্রী হচ্ছে না। পণ্য পরিবহনও কমে গেছে।’
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ডিজিএম গোপাল চন্দ্র মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, ‘লোকসান হলেও দ্বীপ এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য স্টিমার সার্ভিস চালু রাখতে হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বহরে যুক্ত হবে নতুন জাহাজ দুটি। তখন বরিশাল পর্যন্ত সার্ভিস চালু করা হবে। যাত্রীরা কম সময়ে পৌঁছাতে পারবে।’
