জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকা পড়া সেই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস ধরে হঠাৎ নিখোঁজ হন সেই বৃদ্ধ।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
সীমান্তে পুশইনের ঘটনায় আলোচনায় আসা ষষ্ঠি চন্দ্র বর্মন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই (ললিতনগর) গ্রামের বাসিন্দা বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
দৈনিক ইত্তেফাকের রাজশাহী অফিসের স্টাফ রিপোর্টার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানান, গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই গ্রামের হিন্দুপাড়ার ষষ্টি চন্দ্র বর্মন পেশায় একজন মৎস্যজীবী ও কৃষক। এক ছেলে ও তিন মেয়ের জনক তিনি। সন্তানদের বিয়ে হয়েছে এবং মাছ ধরা ও কৃষি কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রায় তিন মাস আগে তিনি নিখোঁজ হন। দীর্ঘদিন সন্ধানের পর সীমান্তে তার অবস্থানের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরিয়ে আনতে জামালপুরের বকশীগঞ্জে রওনা দেন।
পরিবারের ধারণা, নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি কোনোভাবে ট্রেনে উঠে এলাকা ছেড়ে দূরবর্তী অঞ্চলে চলে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধের পরিচয় নিশ্চিত হলে পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ব্যবসায়ী বাসার আলী বলেন, তিন মাস ধরে পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ করছিলেন। অবশেষে তার সন্ধান পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে তাকে বাড়িতে আনতে তার ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মন বকশীগঞ্জ গেছেন।
এদিকে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ সংবাদদাতা স্থানীয় থানা পুলিশের বরাতে জানান, নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ করছিলেন। বুধবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও দেখে স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন। পরে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ নিয়ে থানায় এসে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের ভাই সুমন বর্মন বলেন, মাস ধরে ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। আমরা খুব চিন্তায় ছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছি, কিন্তু কোথাও সন্ধান মেলেনি। অবশেষে সীমান্তে আটকে থাকার ভিডিও দেখে তাকে শনাক্ত করতে পারি। ভাইকে ফিরে পেয়ে আমরা খুবই খুশি। যারা তাকে উদ্ধার করেছে ও আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
বকশীগঞ্জ থানার ওসি মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘বৃদ্ধের স্বজনরা জাতীয় পরিচয়পত্রসহ থানায় আসেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে এই সীমান্ত এলাকায় এসেছিলেন, সে বিষয়ে তার পরিবারের সদস্যরাও কিছু বলতে পারেননি।’
উল্লেখ্য, এর আগে ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টাকে কেন্দ্র করে কামালপুর সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃদ্ধের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তার স্বজনেরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করে।

এক রাতে ৮ স্থানে দিয়ে শতাধিক পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, রুখে দিলো বিজিবি ও স্থানীয়রা