ইউক্রেনে মে মাসে বেসামরিক হতাহত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫০

ইউক্রেন জুড়ে রুশ বাহিনীর অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। গত মে মাসে দেশটিতে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের  প্রকাশিত সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

শুক্রবার (১১ জুন) প্রকাশিত জাতিসংঘের ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের অন্তত ২৭৪ জন নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১ হাজার ৭৬৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এক মাসের হিসাবে বেসামরিক হতাহতের এই সংখ্যা ২০২২ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।

গত ২০২৫ সালের মে মাসের তুলনায় এবার হতাহতের সংখ্যা প্রায় ৯৩ শতাংশ বেড়েছে। উল্লেখ্য, বিগত বছরের মে মাসে ১৯১ জন নিহত ও ৮৬৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রুশ বাহিনীর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মোট হতাহতের প্রায় ৪৫ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব প্রাণঘাতী হামলার বেশিরভাগই হয়েছে রাজধানী কিয়েভ ও দনিপ্রোর মতো জনবহুল শহরগুলোতে, যা যুদ্ধের সম্মুখসারি (ফ্রন্টলাইন) থেকে অনেকটাই দূরে অবস্থিত।

অন্যদিকে, ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি অঞ্চলগুলোতে রাশিয়ার স্বল্প-পাল্লার ড্রোন হামলা এখন বেসামরিক সাধারণ মানুষের জন্য যমদূত হয়ে উঠেছে। শুধু মে মাসেই ড্রোনের আঘাতে ৬৪ জন নিহত এবং ৫৩৯ জন আহত হয়েছেন, যা ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একক কোনো মাসে ড্রোন হামলায় সর্বোচ্চ হতাহতের রেকর্ড।

জাতিসংঘের হিসাব মতে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ।

তবে বিশ্ব সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে জাতিসংঘের তদন্তকারীদের সরাসরি প্রবেশাধিকার না থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এই পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। ফলে বর্তমান দাপ্তরিক পরিসংখ্যানে সব ভুক্তভোগীর সঠিক তথ্য পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ইত্তেফাক/আইএ