ঝুঁকি নিয়েই বাড়ি ফিরছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৯, ২২:০১

পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন ঢাকায় বসবাস করা মানুষরা। আর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সহজ, আরামদায়ক এবং কম খরচের পথ হচ্ছে নৌপথ। নৌপথে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ঘটছে একের পর এক নৌদুর্ঘটনা। নাব্যতা সংকট, অদক্ষ চালক, লঞ্চে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, নৌ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং কর্মকর্তাদের সংকটের কারণে নৌপথে চলাচলে যাত্রীদের দুর্ভোগের সীমা নেই। ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনায় নিমজ্জিত কার্গো, বাল্কহেড উদ্ধার না হওয়ায় দিনে দিনে ঝুঁকি আরো বাড়ছে।

ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফেরা দক্ষিণের মানুষের উপচে পড়া ভিড় পড়েছে সর্বত্র। তিলধারণের ঠাঁই নেই লঞ্চ, বাস ও স্টিমারে। বিরূপ আবহাওয়ায় থেমে থেমে বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিআইডব্লিউটিসির দুটি জাহাজসহ ২৪টি নৌযান ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ যাত্রী নিয়ে বরিশাল নৌবন্দরে পৌঁছায়। এছাড়াও বাস টার্মিনাল, ফেরিঘাটে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের। যাত্রী বোঝাই এসব লঞ্চের ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ১৫০০ যাত্রী হলেও গত রাত থেকে ৭ সহস্রাধিকের বেশি যাত্রী নিয়ে বিলাসবহুল লঞ্চগুলো টার্মিনালে নোঙর করে। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ যাত্রী বোঝাই এসব লঞ্চে নারী ও শিশু যাত্রীদের দুর্ভোগ সীমাহীন। পরিবার-পরিজন নিয়ে এসব মানুষ ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চের ছাদে আসতে হয়েছে। যাত্রীরা বরিশাল বন্দরে পৌঁছে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই লঞ্চের মাঝ নদীর ঢেউয়ে চরম আতঙ্কের কথা জানান। নদীবেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের কর্মস্থল থেকে ঈদে বাড়ি আসা ও ফিরে যাওয়ার জন্য নৌপথের এসব নৌযান হচ্ছে ভরসা। বর্ষা মৌসুমের কারণে এখন অভ্যন্তরীণ রুটের নৌপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। তার ওপরে ধারণক্ষমতার অধিক পরিবহন করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।