লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চিকিত্সকের অবহেলায় নাজমা আক্তার নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাজমা শহরের পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁনমিয়া পাটোয়ারি বাড়ির সাইফুল ইসলামের মেয়ে। রায়পুর মডার্ন হাসপাতালে নাজমার অস্ত্রোপচারের পর অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় নেওয়ার পথে নাজমার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বামী শাহীন আলম জানান, পেটব্যথা অনুভব করলে নাজমাকে বুধবার বিকালে রায়পুর মডার্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় হাসপাতালের ডাক্তার বাহারুল আলম নাজমাকে দেখে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও প্রস্রাব পরীক্ষা করতে দেন।
তিনি রিপোর্ট দেখে বলেন, রোগীর অ্যাপেন্ডিসাইডের সমস্যা। তাকে দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হবে। পরে রাত ১০টায় নাজমার অস্ত্রোপচার করেন বাহারুল। রাত ১১টার পর নাজমার জ্ঞান ফিরে অসুস্থ বোধ করলে স্বজনরা ডাক্তার বাহারুলকে হাসপাতালে আসতে বলেন। রাতে হাসপাতালে এলে অতিরিক্ত ফি দেওয়ার কথা জানান বাহারুল। এতেও স্বজনরা রাজি হন।
কিন্তু ডাক্তার বাহারুল হাসপাতালে আর আসেননি। পরে রোগীর অবস্থা আরো অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার কথা বলে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় নেওয়ার পথে নাজমা মারা যান।
হাসপাতালের পরিচালক আনোয়ার পারভেজ সুমন বলেন, নাজমা আক্তারের অস্ত্রোপচারের জন্য অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পরই রক্তচাপ কমে যায়। রোগীর আগে থেকেই হূদযন্ত্রে সমস্যা ছিল। রোগীর বয়স কম হওয়ায় ডাক্তার ইসিজি ও প্রেসার পরীক্ষা করেনি।
অভিযুক্ত ডাক্তার বাহারুল মুঠোফোনে জানান, কোনো অবহেলা করা হয়নি। রোগীর অ্যাপেন্ডিসাইডের জন্য সব পরীক্ষাই করা হয়েছে। রোগীর হার্টের সমস্যা থাকায় সম্ভবত হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। কোনো মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়।
