জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনে কে পাচ্ছেন ধানের শীষ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী না সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব-এ নিয়ে ধোঁয়াশায় পড়েছে দলের নেতা-কর্মীরা। বিএনপি থেকে দুইজনকে মনোয়নপত্রের চিঠি দেওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে বিএনপির হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ায় তারা মাঠেও কাজ করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন। তবে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী নাশকতা মামলায় জেলহাজতে থাকায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব ও তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা।
অপরদিকে দক্ষ সংগঠক হিসেবে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকেই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন বলে তার অনুসারীরা জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে মির্জাপুরে জল্পনা-কল্পনা একটাই আসলে কে পাচ্ছেন টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের বিএনপির দলীয় ধানের শীষের টিকেট।
বুধবার বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী জানায়, মির্জাপুরে দলীয় মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপির ছয় নেতা। এরা হলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাবির মহসিন হলের সাবেক জিএস মো. সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মৃধা মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য মো. ফিরোজ হায়দার খান ও কেন্দ্রীয় নেতা মো. সাদেক আহমেদ খান। নানা জটিলতায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি ও মনোনয়ন বোর্ড চারজনকে বাদ দিয়ে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ও সাইদুর রহমান সাইদকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে চিঠি দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, মির্জাপুরে বিএনপির দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন দুইবারের নির্বাচিত সাংসদ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। তিনি মির্জাপুরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের একত্রিত ও সুসংগঠিত রেখে আন্দোলন সংগ্রাম ও সভা সমাবেশ করেছেন। তৃণমূলের অধিকাংশ নেতা-কর্মীই তার অনুসারী।
পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাউন্সিলর মো. আলী আজম সিদ্দিকী ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল বলেন, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী একজন পরীক্ষিত নেতা। এলাকায় তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। মনোনয়ন পাবেন বলে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন। অপরদিকে সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাবের পক্ষে বিএনপি নেতা মো. মোবারক হোসেন ও মাহবুব হোসেন বলেন, মির্জাপুরে বিএনপির আসন পুনঃউদ্ধার করতে হলে নতুন মুখের বিকল্প নেই। তাই সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাবই মনোনয়ন পাবেন বলে ইতোমধ্যে বিএনপির হাইকমান্ড জানিয়ে দিয়েছেন।
