শেকড়ের টানে কাঁঠালবাড়ী ঘাট হয়ে ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষ

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৯, ২২:৩২

শিকড়ের টানে কর্মস্থল ত্যাগ করে ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী কাঁঠালবাড়ী ঘাট হয়ে ঘরে ফিরছে দক্ষিণ-পশিচমাঞচলের ২১ জেলার হাজার হাজার মানুষ। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাটে যাত্রীদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।

ঘাট এলাকায় সকল ধরনের অনিয়ম ও যাত্রীদের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে এবং অতিরিক্ত ভাড়া বন্ধে শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) বদরুল আলম, সহকারী কমিশনার (ভুমি) আল নোমান, সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. আবির হোসেন, আইজিপি ও জাতিসংঘ শান্তি পদক প্রাপ্ত শিবচর থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) নাসিরসহ পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন কাউন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া বন্ধ করেন। 

কোন প্রকার যেন যাত্রীদের হয়রানি না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখছেন উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। অপরদিকে যাত্রীদের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ওসি আবুল কালাম আজাদ সার্বিক পরিবহনের ভিতরে ঢুকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার টাকা যাত্রীদের ফেরত দিতে সুপারভাইজারকে বাধ্য করেন। এছাড়াও একাধিক পরিবহন ও মাইক্রোবাস ড্রাইভারকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার টাকা যাত্রীদের ফেরত দিতে বাধ্য করেন ইউএনও, শিবচর সার্কেল ও ওসি। 

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ি ঘাট সূত্র জানায়, এবার ঈদ-উল-আয্হায় দক্ষিণ-পশিচমাঞচলের ২১ জেলার যাত্রীদের চাপ মোকাবিলায় ঘাটে ৮৭টি লঞ্চ, ১৮টি ফেরি ও আড়াই শতাধিক স্পিডবোট রয়েছে। ফেরিগুলো চলছে লৌহজং টানিংর সরু চ্যানেল হয়ে। ফলে পারাপারে দীর্ঘ সময় লাগছে। পদ্মা নদী উত্তাল থাকায় লঞ্চের পাশাপাশি ফেরিতেও যাত্রী পারাপার হচ্ছে।  

শিবচর থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘাট এলাকায় বিন্দুমাত্র অনিময় সহ্য করা হবে না। বিশেষ করে এই ঘাটটি চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর পিতা মরহুম ইলিয়াছ আহম্মেদ চৌধুরীর নামেই। তাই তাঁর নামের সম্মানের দিকে তাকিয়ে হলেও ঘাটে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। আমি শিবচর থানায় যোগদান করার পর সমস্ত পুলিশ সদস্যকে বলে দিয়েছে আমি কোন ব্যক্তির কাছ থেকে এক টাকাও খাবো না, আপনারাও খাবেন না। থানায় অভিযোগ, জিডি ও মামলা করতে কোন টাকা পয়সা নিবেন না। আমার পুলিশ সদস্যরা যদি ঘাট এলাকা থেকে এক টাকাও খায় তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এখানে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলার বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য রয়েছে। আমরা সবাই যৌথভাবে কাজ করছি, ঈদ-উল-আযাহায় যাত্রী সেবা নিশিচত করতে।  

শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এখানে দক্ষিণ-পশিচমাঞচলের ২১ জেলার হাজার হাজার ঘরমুখো যাত্রী পারাপার হচ্ছে। বর্তমানে ঘাট এলাকার পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। যখনি কোন অভিযোগ পাই কোন পরিবহনে ছাদে যাত্রী নিচ্ছে বা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে তখনি আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ঘাট এলাকায় আমাদের মোবাইল কোর্ট অব্যাহত আছে। কিছুক্ষণ পরপরই আমরা প্রতিটা পরিবহন ও মাইক্রোবাস কাউন্টারগুলো পরিদর্শন করি। আমরা লঞ্চ, স্পিডবোট, পরিবহন মালিক সমিতির কাছে বাড়তি ভাড়া আদায় করতে নিষেধ করেছি। তারপরও তারা যদি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে তাহলে আমরা কঠোর ব্যবস্থায় যাব।  

ইত্তেফাক/এমআই