সরকারের হাতে কি এমন আলাদিনের চেরাগ আছে যে এ বাজেট বাস্তবায়িত হবে? এমন প্রশ্ন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত আসনের মারদিয়া মমতাজ। তিনি বলেন, ‘সংস্কার প্রস্তাব ছাড়াই এবারের বাজেট দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অবাস্তব আদায় লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে।’
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে মারদিয়া মমতাজ এ কথা বলেন। সংসদে দিনের কার্যসূচি ছিল চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা। মারদিয়া মমতাজসহ সরকারি দল ও বিরোধী দলের সবাই আলোচনা করেছেন প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর।
মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘সমস্যা বরাদ্দে না, সক্ষমতার। গতকাল একজন মা ফোন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমরাও ভোট দিয়েছি। অথচ বেসরকারি খাতের জন্য বাজেটে কোনো নির্দেশনা নেই। সরকারি চাকরিতে নিয়োগবাণিজ্য ও ঘুষবাণিজ্য হয়, তাদের বেতন বাড়ছে।’ কওমি শিক্ষা নিয়ে বাজেটে কোনো নির্দেশনা নেই বলেও আপত্তি জানান মারদিয়া মমতাজ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে প্রস্তাবিত বাজেটে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় গত ২০ বছরে যে অরাজকতা দেখেছি, আমাদের এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের তুলনা করা হয় সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের।’
সৃজনশীল অর্থনীতিতে বড় বরাদ্দ রাখার প্রশংসা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট একটি আশাবাদী বাজেট। শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ শতাংশ বাজেটকে ২ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এটাকে জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।’
নওগাঁ–৩ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, ‘যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, তার বাস্তবায়ন দরকার। সমালোচনা না করে এ বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে তাদের সহযোগিতা করা উচিত।’
শেরপুর–১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘কত টাকার বাজেট দিলেন, মানুষ তা দেখে না। মানুষ দেখে বাস্তবতা। করল্লার দাম কমল কি না, মানুষ তা দেখে। বারবার বলা হচ্ছে কার্ড দেওয়া হচ্ছে। জিনিসপত্রের দাম না কমলে তো কার্ডের টাকায় কুলাবে না।’
রাশেদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘মানুষের অধিকারের দিকে না তাকিয়ে, সুশাসনের দিকে না তাকিয়ে ১০টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চমৎকার! অথচ সুশাসনকে অগ্রাধিকার দিলে স্বস্তি পেতাম।’
বিএনপির সংরক্ষিত সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা বলেন, ‘এ বাজেট সুচিন্তিত বাজেট। সারা দেশের মানুষ এ বাজেটে খুশি হয়েছেন।’
বিএনপির সংসদ সদস্য জালালউদ্দিন বলেন, ‘রাজস্ব হচ্ছে বাজেটের রক্ত। রক্ত ছাড়া যেমন শরীর চলে না, রাজস্ব ছাড়াও সরকার চলবে না। আগামী বাজেটে রাজস্ব সংগ্রহে জোর দেওয়া হয়েছে। এ বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য।’

