খুলনার জিআরপি থানায় তিন সন্তানের মাকে (৩০) গণধর্ষণের ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ঐ নারী বাদী হয়ে গত শুক্রবার রাতে জিআরপি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অপর চার আসামি হলেন ঘটনার সময় ডিউটিরত কর্মকর্তা ও অজ্ঞাত আরো তিনজন। তবে মামলায় আসামিদের পদ উল্লেখ করা হলেও তাদের কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদ বলেন, জিআরপি থানায় গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ওসি উছমান গণিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও হত্যা নিবারণ আইনে মামলা হয়েছে। এ মামলার বাদী নির্যাতনের শিকার নারী নিজেই। তিনি আরো বলেন, তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এ সময় আরো বাড়তে পারে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্যাতনের শিকার নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কমিটি। জিজ্ঞাসাবাদের পরেই আদালতের নির্দেশে পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। উক্ত ধর্ষণের ঘটনায় গত মঙ্গলবার কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদসহ ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শুরু করে। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, পুলিশ পরিদর্শক শ ম কামাল হোসেইন ও মো. বাহারুল ইসলাম।
এর আগে গত রবিবার (৪ আগস্ট) নির্যাতনের শিকার ঐ নারী আদালতে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন জিআরপি খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ নিজে তল্লাশির নামে তার শরীরের স্পর্শকাতর অংশে স্পর্শ করেন এবং এর কিছুক্ষণ পর ডিউটি অফিসারের সহায়তায় তার ওপর ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন চালান। পরবর্তীতে আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে একই ডিউটি অফিসারের সহযোগিতায় তাকে চোখ বেঁধে অন্য একটি রুমে নিয়ে গিয়ে মুখে কাপড় বেঁধে অফিসার ইনচার্জ, ডিউটি অফিসার ও বাকি তিন পুলিশ সদস্য মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ বিষয়টি কাউকে বললে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন। ফজরের আজানের কিছু আগে তাকে তারা গারদে নিয়ে রেখে দেন। পরদিন পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে কোর্টে চালান দেন।
উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে ঐ নারীকে আটক করে খুলনা জিআরপি থানা পুলিশ। মহিলার অভিযোগ, মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ দিয়ে তাকে আটক করা হয়। ঐ দিন রাতে থানা হাজতে ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে মারধর ও ধর্ষণ করে। পরদিন তাকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গত রবিবার ঐ নারী খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামানের আদালতে তাকে মারধর ও গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে তার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে গত সোমবার তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। তবে ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো তৈরি হয়নি।
