দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল বৃহস্পতিবার নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। এ বিষয়ে খবর জানিয়েছেন ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাগণ:
কুড়িগ্রাম: ১৯৭১ সালের এইদিনে মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনা, রাজাকার ও আলবদরদের হটিয়ে কুড়িগ্রামকে মুক্ত করেন। দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মণ্ডল, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক শ্যামল ভৌমিক মুখ।
লালমনিরহাট: লালমনিরহাটে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুক্ত দিবস পালিত হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে ৬ নং সেক্টরের মিলিটারি ফোর্স (এম.এফ) সশস্ত্র গেরিলা বাহিনী (এফ.এফ) ও মিত্র বাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, এদেশীয় রাজাকার, আলবদর ও তাদের সহযোগীরা বিপর্যস্ত ও ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। ভোরের দিকে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে লালমনিরহাট জেলাকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এ উপলক্ষে এক সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ। এ সময় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার এস. এম রশিদুল হক, সিভিল সার্জন ডা. কাশেম আলী, ক্যাপ্টেন অব. আজিজুল হক বীর প্রতীক, গেরিলা লিডার ড. এস. এম শফিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাদল আশরাফ প্রমুখ।
সুনামগঞ্জ:সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার বরকতুল্লা খান, পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, সিভিল সার্জন আশুতোষ দাশ, দোয়ারা বাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীর প্রতীক প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ পাকহানাদার মুক্ত হয়। র্যালি শুরু করার আগে সকল শহীদের প্রতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান, পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, সিভিল সার্জন আশুতোষ দাশ, দোয়ারা বাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীর প্রতীক প্রমুখ।
যশোর:যশোরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্ত দিবস উপলক্ষে গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় হাজারো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। এরপর বাদ্যের তালে তালে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে জাতীয় পতাকা শোভিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল। এসময় উপস্থিত ছিলেন, একাত্তরের বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর কমান্ডার আলী হোসেন মণি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, জাসদের কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, মোহাম্মদ আলী স্বপন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামানসহ বিভিন্ন বয়সের সাধারণ জনগণ। উদ্বোধনের পর বর্ণাঢ্য র্যালি শহর প্রদক্ষিণ শেষে বিজয় স্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
সাতক্ষীরা: কলারোয়া উপজেলা মুক্ত দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক আবু আহমেদ, কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গোলাম মোস্তফা, তালা উপজেলা কমান্ডার মফিজউদ্দিন। এর আগে সকালে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে কলারোয়া উপশহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
কচুয়া (চাঁদপুর) :কচুয়ায় উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে কচুয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল মুবিনের সভাপতিত্বে ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ চন্দ্র সেনের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নীলিমা আফরোজ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী ভূমি রুমন দে ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার জাবের মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা শহীদ দর্জি, আনোয়ার হোসেন শিকদার ও আমিরুল ইসলাম প্রমুখ।
ডোমার (নীলফামারী) : বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ডোমার উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। যৌথভাবে আয়োজন করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মুক্ত দিবসের সূচনা হয়। এরপর কার্যালয়ের সম্মুখে বঙ্গবন্ধুর ছবিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে মুক্তিযোদ্ধা, সন্তানসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ। এ সময় বিশাল আকৃতির একটি জাতীয় পতাকা, ব্যানার ফেস্টুন ও বাদ্যযন্ত্রসহকারে একটি র্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক আল-আমীন রহমানের সভাপতিত্বে এতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরননবী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আলম, পৌর কমান্ডার ইলিয়াছ হোসেন, প্যানেল মেয়র এনায়েত হোসেন নয়ন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদার রহমান মানিক, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আসাদুজ্জামান চয়ন, হুমায়ুন কবির রাকিব, তানভিন ইসলাম প্রমুখ ।
