অতীতে ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে কিছু এলাকার গার্মেন্টস কারখানায় অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়া একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধীরে ধীরে এক্ষেত্রে উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবারও ঈদুল আজহার আগে কারখানায় বড়ো কোনো অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি। গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, সংগঠনটির সদস্যভুক্ত সব কারখানা গতকাল শনিবার বিকাল নাগাদ জুলাইয়ের বেতন ও উত্সব বোনাস পরিশোধ করেছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশও জানিয়েছে, গতকাল নাগাদ সব কারখানা শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করেছে। কোনো অসন্তোষ নেই। অবশ্য বোনাসের অর্থ পরিশোধ নিয়ে শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তারা বলছেন, বোনাসের অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত কোনো মানদণ্ড ঠিক না হওয়ায় কারখানাগুলো যার যার ইচ্ছেমতো পরিশোধ করছে। গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার ইত্তেফাককে বলেন, কোনো কোনো কারখানা মালিক বোনাস হিসেবে ১ হাজার টাকাও দিচ্ছেন শ্রমিকদের। তিনি বলেন, খিলগাঁওয়ের সিসিলি গার্মেন্টস শ্রমিকদের আংশিক অর্থ পরিশোধ করেছে আর ভালুকার সুপ্তি গার্মেন্টসের পাওনা ইস্যুটি পুরো সমাধান হয়নি।
বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, আমাদের জানা মতে কোনো কারখানায় বেতন-ভাতা বকেয়া নেই। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও শিল্পাঞ্চল পুলিশ থেকে ২৭৮টি কারখানা বেতন-বোনাসের ঝুঁকির মধ্যে ছিল বলে জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৭টি কারখানায় বিজিএমইএ উদ্যোগ নিয়ে বেতন-ভাতার সমস্যার সমাধান করেছে। তিনি বলেন, আগামীতে গার্মেন্টসের বেতন-বোনাসের বিষয়টি আর সংবাদ মাধ্যমের ইস্যু থাকবে না।
বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, গত রোজার ঈদের মতো এই ঈদেও শ্রমিকদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সুবিধার্থে বিআরটিসির ১৭১টি বাস দিয়েছে সরকার।
