বান্ধবীকে দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাবাকে হত্যা করায় ছেলে!

চট্টগ্রামে দুই বছর পর মীর মজিবুর হত্যারহস্য উদ্ঘাটন, আটক ২

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯

চট্টগ্রামে সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বান্ধবীকে দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাবাকে হত্যা করার ঘটনায় নিহতের ছেলে ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর পর তদন্তের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে সংস্থাটি। নিহত ব্যক্তি হলেন ফটিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা মীর মজিবুর রহমান খান (৬০)। তিনি পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। গতকাল সোমবার পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ৬ জুন মীর মজিবুর রহমান খান ফটিকছড়ি থেকে চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লায় মেয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন। পরদিন ৭ জুন সকালে এক নারীর ফোন পেয়ে বাঁশখালী যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মেয়ে সালমা খানম প্রথমে কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের আদালতে অপহরণের অভিযোগে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো। তদন্তের একপর্যায়ে পিবিআইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় অপহরণের মামলা হিসেবে এটি নথিভুক্ত হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন কর্ণফুলী থানার মইজ্জারটেক এলাকা থেকে নিহতের ছেলে বেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই জানতে পারে, ঘটনার সময় হালিশহর থানার মাধ্যমে একটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার করে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছিল। পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষে ঐ মরদেহের পরিচয় মীর মজিবুর রহমান খান হিসেবে নিশ্চিত করা হয়।

বেলালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরদিন ভোরে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ঘোড়ামারা গ্রাম থেকে তার সহযোগী আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বেলাল।

পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে বেলাল হোসেন তার বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তিনি মনে করতেন, তার বাবা তাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করছেন এবং অবশিষ্ট জমিও বিক্রি করে দিতে পারেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কৌশলে নিজের বান্ধবীর সঙ্গে বাবার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ছেলে।

ঘটনার দিন ঐ নারী নগরের বাকলিয়া এলাকার একটি বাসায় মজিবুর রহমানকে ডেকে নেন। সেখানে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করা হয়। পরে বেলাল ও তার সহযোগী আব্দুল জলিল তাকে হালিশহর এলাকায় নিয়ে গিয়ে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ একটি জঙ্গল এলাকায় ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যান। পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন