জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের ঝাওডাংগা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ঠেলে পাঠানোর চেষ্টার শিকার এক যুবক প্রায় ১৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। ওই যুবক বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এ ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে মৌখিক যোগাযোগ হলেও মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
ফলে সোমবার (১৫ জুন) রাত ১০টা থেকে খোলা আকাশের নিচে প্রচণ্ড গরমে মানবেতর অবস্থায় সময় কাটাচ্ছেন তিনি। সীমান্তের ধানখেতঘেরা শূন্যরেখায় কখনো বসে, কখনো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে তাকে। একদিকে বিএসএফ এবং অন্যদিকে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অবস্থানের কারণে তিনি কোনো দিকেই যেতে পারছেন না।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, গতকাল রাত ১০টার দিকে ওই সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৭৮ নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে বিএসএফ সদস্যরা ওই যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বাংলাদেশ সীমান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা এবং বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। এর পর থেকে ওই যুবক আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা মানবিক কারণে তাঁর খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছেন।
পাররামরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম মিয়া প্রথম আলোকে জানান, গতকাল রাতে খবর আসে ওই সীমান্ত দিয়ে কয়েকজনকে পুশ ইনের চেষ্টা করছেন বিএসএফ সদস্যরা। পরে সেখানে বিজিবি ও গ্রামবাসী অবস্থান নেয়। এতে বিএসএফ সদস্যদের পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এর পর থেকে ওই যুবক শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। মানবিক কারণে স্থানীয় কয়েকজন তাঁর খাবার ও পানি সরবরাহ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আজ সকালে ওই যুবকের কাছে গিয়েছিলাম। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিলাম। কিন্তু ওই যুবক যে বাংলাদেশি সেটার তথ্য দিতে পারেননি। তাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নামও জিজ্ঞাস করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি বলতে পারেননি। বাংলাদেশের কোন এলাকায় তাঁর বাড়ি, সেটাও সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারেননি।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘ওই সীমান্ত এলাকাটি খুবই দুর্গম। ভারত ও বাংলাদেশের অংশেও উঁচু পাহাড় রয়েছে। এত দুর্গম এলাকা দিয়ে তাকে কীভাবে আনা হলো সেটাই বুঝতে পারছি না। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক জানিয়েছিলেন, ভারতের অংশের পাহাড়ে ওই পাশে আরও কয়েকজন আছেন।’
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিএসএফ ওই দিক দিয়ে ওই যুবককে পুশ ইনের চেষ্টা করেছিল। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় সেটা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি। এর পর থেকে ওই যুবক শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তেমন কিছুই বলতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে মৌখিকভাবে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা যে পুশ ইনের চেষ্টা করেছেন, সেটা স্বীকার করেননি। ফলে ওই যুবক সেখানেই আছে। বিজিবিও সতর্ক অবস্থায় আছে।

