তিন দিনে ইসলামী ব্যাংককে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ১৬:৪৫

তারল্য সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (১৭ জুন) দেওয়া এ সহায়তাসহ গত তিন দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির কাছ থেকে মোট ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকটির চলমান তারল্য সংকট কমানো এবং গ্রাহকদের স্বাভাবিক লেনদেন নিশ্চিত করতেই এ অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক বছরে ঋণ অনিয়ম, বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকটের কারণে ইসলামী ব্যাংক তারল্য চাপে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন ও অন্যান্য ব্যাংকিং সেবায়।

এদিকে, মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বৈঠক শেষে সংগঠনটির নেতারা সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন।

তাদের অন্যতম দাবি হলো, অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ থাকা গোষ্ঠীর হাতে থাকা ব্যাংকটির শেয়ার আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া অথবা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিক্রি করা। এতে মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন তারা।

গ্রাহক ফোরাম জানায়, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের বিষয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেবে বলে তাদের জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা হবে।

বৈঠকে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলেও দাবি করেছে গ্রাহক ফোরাম।

দেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক। ২০১৭ সালে ব্যাংকটির মালিকানা ও পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পর থেকেই এটি নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পরবর্তী সময়ে এস আলম গ্রুপের প্রভাব বিস্তার, ব্যাপক ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে ব্যাংকটিকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে দীর্ঘদিনের অনিয়মের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এখনও ব্যাংকটিকে তারল্য সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 
ইত্তেফাক/এমএএম