ঐশ্বরিয়াকে ‘আন্টি’ ডেকে তোপের মুখে সোনম কাপুর

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৩৩

বলিউডে তারকাদের ব্যক্তিগত মন্তব্য প্রায়ই আলোচনার জন্ম দেয়। তবে কিছু মন্তব্য সময়ের সঙ্গে হারিয়ে না গিয়ে আরও বেশি আলোচিত হয়ে ওঠে। তেমনই একটি ঘটনা অভিনেত্রী সোনম কাপুরের করা ‘আন্টি’ মন্তব্য, যা ২০০৯ সালে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে ঘিরে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক প্রসাধনী ব্র্যান্ডের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দীর্ঘদিনের প্রতিনিধি ছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। একই সময়ে ব্র্যান্ডটির নতুন ভারতীয় প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হন সোনম কাপুর। ফলে কান চলচ্চিত্র উৎসবে দুই প্রজন্মের দুই তারকাকে একসঙ্গে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তরা।

তবে উৎসব শুরুর আগেই এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়াকে ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন সোনম। মন্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বলিউড অঙ্গনজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই তার বক্তব্যকে অসম্মানজনক ও অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন।

তবে সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি সোনম। বরং তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ঐশ্বরিয়া তার বাবা অনিল কাপুরের সঙ্গে ‘হামারা দিল আপকে পাস হ্যায়’ ও ‘তাল’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সেই পারিবারিক পরিচয়ের সূত্র ধরেই তিনি ঐশ্বরিয়াকে ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেছিলেন।

সোনমের দাবি ছিল, ঐশ্বরিয়া তার চেয়ে ভিন্ন প্রজন্মের একজন অভিনেত্রী। তাই তাকে ‘আন্টি’ বলা তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। এ মন্তব্যে কোনো ধরনের বিদ্বেষ বা অসম্মানের উদ্দেশ্য ছিল না বলেও জানান তিনি।

তবে বলিউডের বিভিন্ন মহলে বিষয়টি ভালোভাবে নেওয়া হয়নি। ঐশ্বরিয়ার ভক্তদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই সোনমের মন্তব্যকে অপেশাদার আচরণ হিসেবে দেখেছিলেন।

সে সময় বলিপাড়ায় গুঞ্জন ওঠে, মন্তব্যটি নিয়ে বিরক্ত হয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। এমনও শোনা যায়, একই ব্র্যান্ডের প্রতিনিধি হিসেবে কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় সোনমের সঙ্গে উপস্থিত হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেননি।

সময়ের সঙ্গে দুই অভিনেত্রীর সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসে। পরবর্তী সময়ে সোনমও ইঙ্গিত দেন, সে সময় বিষয়টি আরও পরিণতভাবে সামাল দেওয়া উচিত ছিল।

বহু বছর পেরিয়ে গেলেও বলিউডের আলোচিত বিতর্কগুলোর তালিকায় সোনম কাপুরের ‘আন্টি’ মন্তব্য এখনো অন্যতম আলোচিত ঘটনা। সময়ের ব্যবধানে এটি বি-টাউনের স্মরণীয় বিতর্কগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসএ