বেহাল সড়কে নাকাল হাজারো শিক্ষার্থী

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫২

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি এখন দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি ও কাদায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যদিনের ভোগান্তি বাড়ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০০৩ সালে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে সড়কটি নির্মাণ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় চার বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।

এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন কৃষ্ণপুর সরকারি হাজী আলী আকবর কলেজ ও কৃষ্ণপুর এএপি উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক যাতায়াত করেন। তবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের অনেকেই জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, কৃষ্ণপুর কলেজ থেকে বাজার পর্যন্ত প্রায় ২০০ ফুট সড়ক কাদা ও পানিতে সয়লাব। ওই অংশ পার হতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে পোশাক-পরিচ্ছদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

কৃষ্ণপুর কলেজের শিক্ষার্থী নাজমূল হক ও খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘বৃষ্টি হলে কলেজে যেতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় কাপড় ও জুতা কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। কলেজে পৌঁছানোর আগেই আমরা নোংরা হয়ে যাই।’

কৃষ্ণপুর সরকারি হাজী আলী আকবর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম আমিরুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘এটি আমাদের কলেজে যাওয়ার একমাত্র সড়ক। প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী এই কলেজে অধ্যয়ন করে। রাস্তাটিতে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচলও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের জন্য লিখিতভাবে আবেদন জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কর্দমাক্ত সড়কে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাঁটুসমান কাপড় তুলে চলাচল করতে হয়, যা অত্যন্ত বিব্রতকর।’

কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম মোড়ল জানান, কৃষ্ণপুর কলেজ থেকে গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার অংশে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে জমে থাকে। সড়কটি সংস্কারের জন্য এলজিইডি ও উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় একাধিকবার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও এখনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।

খালিয়াজুরী এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস এম সাহাদত হোসেন বলেন, ‘সড়কটি এখনো কোনো সংস্কার প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে ভবিষ্যতে সুযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের এই সড়কটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা হোক, যাতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি