স্ত্রীকে জোর করে আনতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে পালালেন ছাত্রদল নেতা 

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ১১:১৫

স্ত্রীকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে বগুড়ার নন্দীগ্রামে জনরোষের মুখে পড়েছেন ছাত্রদল নেতা ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল ও তার সহযোগীরা। স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে দুটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তারা। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে উপজেলার ভাগ শিমলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল উপজেলার মাঝগ্রামের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে ও নন্দীগ্রাম সরকারি মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি।

জানা গেছে, দুই বছর আগে ভাগ শিমলা গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে আরফিন আলমগীর রিভাকে প্রেম করে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন ফিরোজ আহম্মেদ। তবে রিভার পরিবার এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় দীর্ঘদিন তাদের পারিবারিক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। 

দুই মাস আগে এই দম্পতির ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। গত ১৪ জুন রিভার বাবা-মা তাদের বিয়ে মেনে নিয়ে শাকিলের বাড়িতে যান এবং মেয়েকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর গত বুধবার বাবার বাড়ি থেকেই শাকিলকে তালাকনামা পাঠান রিভা।

স্থানীয় লোকজন জানান, তালাকের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার শাকিল তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ভাগ শিমলা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। এ সময় শাকিলের সঙ্গে আসা যুবকরা বাড়ির লোকজনকে মারধর করে রিভাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে শাকিল ও তার সহযোগীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে তারা দুটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

শাকিলের স্ত্রী আরফিন আলমগীর রিভা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই শাকিল ও তার মা আমাকে মারধর করতেন। শাকিল আমার গয়না বিক্রি করে দিয়েছেন। সন্তান হওয়ার পরও আমাকে নির্যাতন সইতে হয়েছে। বাবা-মা মেনে না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে আগে শাকিলের বাড়িতে ছিলাম। গত ১৪ জুন বাবা-মা আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসার পর আমি তাকে তালাক দিই। এই খবর পেয়ে সে লোকজন নিয়ে এসে আমাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে শাকিল বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। হঠাৎ তালাকের খবর পেয়ে কারণ জানতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন আমার স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাকে এবং সঙ্গে থাকা কয়েকজন মারধর শুরু করে। প্রাণভয়ে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ভাগ শিমলা গ্রামে আলমগীর হোসেনের বাড়িতে যায়। তবে সেখানে গিয়ে শাকিল বা তার সহযোগীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে ফেলে যাওয়া দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় যোগাযোগ করেনি।

 
ইত্তেফাক/এমএসআর