যুবককে অপহরণ চেষ্টা

গণপিটুনির শিকার সেই তিন পুলিশসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ২০:১০

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক যুবককে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪ পুলিশ সদস্যসহ মোট ৬ জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ ‍জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম। এর আগে বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জের গাউছিয়া ও আড়াইহাজার শান্তির বাজারে গণপিটুনির শিকার হন পুলিশ সদস্যরা। তাৎক্ষণিকভাবে তারা দাবি করেছিলেন আসামি  গ্রেপ্তার করতে রূপগঞ্জের গাউছিয়া এসেছিলেন তারা।

তবে পরে এই ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দয়ের করেন ভুক্তভোগী যুবক অমিত হাসান।

গ্রেপ্তাররা হলেন, পুলিশের এসআই মামুন মাতুব্বর, এএসআই  আমান উল্লাহ, কনস্টেবল কবির, কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদ। তারা সবাই ঢাকা ডিবি দক্ষিণে কর্মরত।

তাছাড়া মামলার বাকি দুজন আসামি হলেন- গ্রেপ্তারদের গাড়িচালক আবু বক্কর সিদ্দিক (৫০) ও মো. সেলিম (৪৫)।

ভুক্তভোগীর বরাতে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁওয়ের বারদী এলাকা থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কর্মরত অমিত হাসান নামে এক যুবক তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় আসেন। এসময় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে তাকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ওই যুবকের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে গাড়িটির গতিরোধ করে এসআই মামুন, এএসআই আমানউল্লাহ, কনস্টেবল কবিরকে আটক করে পিটুনি দেয়। 

অন্যদিকে প্রাইভেটকার নিয়ে পালিয়ে যায় আরও তিনজন। পরে উত্তেজিত জনতা আটকদের একটি পিকআপে করে  আড়াইহাজারের শান্তিনগর বাজারে নিয়ে আসে। সেখানেও আবারও তাদেরকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে রাতে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এদিকে রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত আরেক পুলিশ কনস্টেবল আকাশকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তাররা এর আগেও অপহরণের নাটক সাজিয়ে অমিতের দূর সম্পর্কের মামা জয়নাল এবং সোনারগাঁওয়ের জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে কেরানীগঞ্জে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা মুক্তিপণ আদায়ের করেছিল। গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা না জানিয়ে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় এসে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনার সঠিক তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/এপি