১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জার্মানি

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ১৩:৪৩

২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর থেকেই যেন ‘কুফা’ লেগেছিল জার্মানির ভাগ্যে। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। অবশেষে দীর্ঘ ১২ বছর পর নকআউট পর্বে উঠল তারা। 

শনিবার (২০ জুন) টরন্টোর বিএমও ফিল্ড স্টেডিয়ামে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড বা শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে জার্মানি।

২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বে পা রাখল ডাই মানশাফটরা। আর এই ঐতিহাসিক জয়ে জার্মানি শুধু পরের পর্বেই টিকিট কাটেনি, বরং বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৪১ গোল করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে আবারও ছুঁয়ে ফেলেছে। 

ম্যাচের প্রথমার্ধটা অবশ্য জার্মান সমর্থকদের জন্য ছিল চরম হতাশা আর বুকভাঙা বেদনার। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ইয়ান দিওমান্দের পাস থেকে আইভরি কোস্টকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ফ্রাঙ্ক কেসি। 

এর আগে ও পরে প্রথমার্ধে আলেকসান্ডার পাভলোভিচ এবং আর্সেনাল তারকা কাই হাভার্টজ দুবার আইভরি কোস্টের জালে বল পাঠালেও ফাউলের কারণে রেফারি দুটি গোলই বাতিল করে দেন। ডাগআউটে থাকা কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যানের ওপর যখন গত দুই বিশ্বকাপের ভূত চেপে বসছিল, ঠিক তখনই তিনি মাঠে নামান সুপার-সাব দেনিজ উন্দাভকে।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬৮তম মিনিটে নাদিয়েম আমিরির নিখুঁত ক্রস থেকে এক দর্শনীয় ভলিতে জার্মানিকে ১-১ সমতায় ফেরান উন্দাভ। এরপর ম্যাচের নাটকের তখনো বাকি ছিল। 

ইনজুরি সময়ের ঠিক চতুর্থ মিনিটে (৯৪ মিনিটে) ফেলিক্স নমেচার পাস থেকে ডান পায়ের জাদুতে আইভরি কোস্টের ডিফেন্স চূর্ণ করে নিজের দ্বিতীয় ও জয়সূচক গোলটি করেন উন্দাভ। মুহূর্তের মধ্যে টরন্টোর গ্যালারিতে থাকা ৪৩ হাজার জার্মান সমর্থক বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন। 

ম্যাচ শেষে ডিফেন্ডার জোনাথন তা সতীর্থদের জেতার মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, আমাদের আজ সবই ছিল, আমরা কেউ হাল ছাড়িনি। আইভরি কোস্ট হেরে গেলেও এখনো তাদের বিদায় ঘণ্টা বাজেনি। শেষ ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে হারাতে পারলে তাদের সামনেও থাকবে নকআউটের সুবর্ণ সুযোগ।

২০১৮ এবং ২০২২—টানা দুটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের চরম লজ্জা পেতে হয়েছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে ডেনিজ উন্দাভের অবিশ্বাস্য 'সুপার সাব' ভূমিকায় এক ম্যাচ বাকি থাকতেই শেষ ৩২ (নকআউট) নিশ্চিত করল ডাই মানশাফটরা। ২০১৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পারল তারা।

টরন্টোতে অনুষ্ঠিত 'গ্রুপ ই'-এর হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। প্রথমার্ধে লড়াকু আইভরি কোস্টের ফ্রাঙ্ক কেসির দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল জার্মানি। তবে ম্যাচের ৬০ মিনিটে জোড়া গোলদাতা উন্দাভ বেঞ্চ থেকে মাঠে নামতেই পাল্টে যায় পুরো দৃশ্যপট।

ম্যাচের ৩০ মিনিটে বাঁ-দিক থেকে ইয়ান দিওমান্দে ও আমাদ দিয়ালোর পাস থেকে আইভরি কোস্টকে দুর্দান্ত এক গোলে এগিয়ে নেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক কেসি।

ম্যাচের ৬০ মিনিটে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন জার্মান কোচ। লেরয় সানে, জামাল মুসিয়ালা এবং আলেকসান্ডার পাভলোভিচকে উঠিয়ে মাঠে নামানো হয় ডেনিজ উন্দাভ, নাদিয়েম আমিরি এবং জেমি লেভেলিংকে। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার তুলে পুরো আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নেন তিনি।

৮ মিনিটে সমতা, ইনজুরি টাইমে জয়: মাঠে নামার ঠিক ৮ মিনিটের মাথায় (৬৮ মিনিট) আমিরির ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক ভলিতে জার্মানিকে সমতায় ফেরান উন্দাভ। এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯৯ মিনিট), ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে জোরালো শটে আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয় ফোফানাকে পরাস্ত করে ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন স্টুটগার্টের এই ফরোয়ার্ড।

‘কুরাসাওয়ে এখন আমার একটা মূর্তি দরকার'–১৫ সেভ করে এলোয় রুম'কুরাসাওয়ে এখন আমার একটা মূর্তি দরকার’–১৫ সেভ করে এলোয় রুম
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই মুহূর্তে ম্যাচের অনুপাতে গোল করার দিক থেকে আর্লিং হালান্ডের পরই আলোচনায় উন্দাভ।

জার্মানির হয়ে মাত্র ১১ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা এখন ৯টি! চলতি বিশ্বকাপে ৩ গোল নিয়ে তিনি লিওনেল মেসি ও জোনাথন ডেভিডের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা। মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপের ৩টি গোলই তিনি করেছেন বদলি হিসেবে মাঠে নেমে।

পরাজিত হলেও প্রশংসিত আইভরি কোস্ট

ম্যাচ হারলেও ৪-৩-৩ ফরমেশনে ইমার্স ফায়ের শিষ্যরা যেভাবে কিমিখ-রুদ্রিগারদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে, তাতে টুর্নামেন্টে তাদের বহুদূর যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। অনেকেই এই আইভরি কোস্টের মাঝে ২০২২ বিশ্বকাপের মরক্কোর ছায়া দেখছেন।

গ্রুপ ই - বর্তমান অবস্থা ও সমীকরণ 

জার্মানি: ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত। শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের মুখোমুখি হবে তারা। |

আইভরি কোস্ট: ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। শেষ ম্যাচে দুর্বল কুরাসাওকে হারালেই তারা চলে যাবে পরের রাউন্ডে। |

ইত্তেফাক/ পিএস