খুলনার চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও শীর্ষ মাদক কারবারি ‘বি কোম্পানির’ পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে কেএমপির গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া। এর আগে গত রোববার রাতে এবং সোমবার সকালে ঢাকা ও খুলনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- নগরীর গোবরচাকা এলাকার এস. এম. আইয়ুব আলীর ছেলে মো. আবরার ফয়সাল ওরফে রাফিন (২৪), শেখপাড়া লোহাপট্টির মৃত নূর ইসলামের ছেলে মো. আল-আমিন (২৯), শেখপাড়া মেইন রোডের বাদশা হাওলাদারের বাড়ি সংলগ্ন মো. রুহুল আমিন শিকদারের ছেলে মো. তুষার শিকদার (৩৮), নবীনগর, খালাসি মাদ্রাসা সংলগ্ন গাউসুল আজমের ছেলে মো. আসিফ (২৫) এবং নগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজার এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির (১৮)।
ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, খুলনা মহানগরীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেএমপির উদ্যোগে গত ১ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্য, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্ত করে গত রোববার রাতে ঢাকার বংশাল এলাকা থেকে মো. আল-আমিন, মো. তুষার শিকদার, মো. আসিফ এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে সোমবার সকালে খুলনা মহানগরীর গোবরচাকা এলাকার এস. এম. আইয়ুব আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সন্ত্রাসী মো. আবরার ফয়সাল ওরফে রাফিনকে গ্রেপ্তার এবং একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
ডিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা খুলনার চিহ্নিত ‘বি কোম্পানি’সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া গ্রেফতারদের কাছ থেকে খুলনায় সক্রিয় অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, তাদের সহযোগী এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিসি ডিবি মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, খুলনা মহানগরীতে কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি কিংবা চিহ্নিত অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

