জব্দ করা কোটি টাকার ইলিশ উধাও, বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ১৬:২৭

ভোলার চরফ্যাশন এলাকা থেকে মাছ ব্যবসায়ীদের কেনা কোটি টাকার ইলিশ মাছ জব্দ ও গায়েবের অভিযোগে পুরো ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

দশ মাছ ব্যবসায়ীর করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালত মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এই নির্দেশনা জারি করেছেন। এছাড়া কেন এই বেআইনি ও অননুমোদিত ইলিশ জব্দ এবং জব্দ তালিকা ছাড়া তা নিষ্পত্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদেরকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। 

রিটকারীদের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া জানান, অতিরিক্ত জেলা জজের নিচে নন এমন একজন বিচারক দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছেন আদালত।

'ভোলায় জব্দ ইলিশ গায়েব' শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোলার চরফ্যাশন থেকে ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে ক্রয় করা কোটি টাকার ইলিশ ঢাকায় পরিবহনের পথে জব্দ করা হয়।

পরে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কিছু মাছ বিতরণের নামে বেশিরভাগ মাছ লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এতে আরও অভিযোগ করা হয়, জব্দের পর ওই মাছের একটি অংশ বরিশালে নিয়ে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। জেলা শহরের কালিনাথ বাজার এলাকায় ৩টি ট্রাকে ১৫৫টি ককসিটে বোঝাই বড় আকারের ইলিশ মাছ জব্দ করে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের অপারেশন টিম।

ওই মাছের ক্রয়মূল্য ছিল ৯৪ লাখ ২ হাজার ৭৮৪ টাকা। ক্ষতিপূরণসহ হয়রানির বিচার দাবি করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন সামরাজ মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির পক্ষে মো. তারেক আজিজ পাটোয়ারী।

জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। তবে ইলিশ মাছ সাগরের নাকি নদীর-এটি বিশেষজ্ঞরা নির্ধারণ করতে পারবেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মৎস্য বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইন জানান, ইলিশ মাছ সাগরের নাকি নদীর তা স্বাভাবিকভাবে আলাদা করা যায় না। গভীর সাগর থেকে মাছ ধরে উপকূলে আনার পথে জব্দ হলে তা সাগরের মাছ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে আলোচিত ইলিশগুলো জেলা শহরের কালিনাথ বাজার এলাকায় ট্রাকে পরিবহনের সময় জব্দ করা হয়। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন ছিল। স্থলপথ থেকে এসব মাছকে সাগরের মাছ হিসেবে জব্দ করা মৎস্য আইনের পরিপন্থি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে গভীর সাগরে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা সহ সামুদ্রিক মাছ আহরণ বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। কোস্ট গার্ড ওই ইলিশকে সামুদ্রিক মাছ উল্লেখ করে জব্দ করে। তবে মাছ ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, এসব মাছ নদী ও মোহনা থেকে ধরা হয়েছে। 

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভোলা কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক ১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ১০ হাজার ১৪০ কেজি সামুদ্রিক ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়।

ইত্তেফাক/এনএ